ত্রিনিদাদে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল-দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের দুর্দান্ত ১৬০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমানের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য পায় পাকিস্তান, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে টপকে যায়। ফলে সিরিজ ড্র হলো। ম্যাচের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রথম ইনিংসেই। টসের পর ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করলেও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ ও অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন, শাই হোপ যোগ করেন ২৯ রান। তবে কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান।
তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সমানভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ আলি ও উবাইদ শাহও দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ থেকে আটকে রাখেন। জবাবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ৩৪ রানেই হারায় ইমাম-উল-হককে। তবে আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। আজান ৫৫ রান করে ফিরলেও এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শফিক। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৮৩ রান। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের দারুণ ইনিংস খেললেও শতকের আক্ষেপ নিয়ে রানআউট হন। অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক। ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। নিচের সারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৮ ও সাজিদ খানের ৩০ রান পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেয়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড নেয় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান।
তিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন। শামার জোসেফ নেন দুটি এবং জেইডেন সিলস একটি উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪০ রান ওঠার পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। রস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করলেও আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ইনজুরির কারণে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করা ব্র্যান্ডন কিং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটই করতে পারেননি। ফলে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের হয়ে আবারও জ্বলে ওঠেন সাজিদ খান ও আলি উসমান। দুজনই ৪টি করে উইকেট শিকার করেন। আলি উসমান ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, আর সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমানসংখ্যক উইকেট তুলে নেন।
মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট। ৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যদিও শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায়। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে কোনো নাটকীয়তার সুযোগ দেননি আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে দলকে জয় এনে দেন তারা। শফিক ৫১ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। বাবরও ৩০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারেই ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।