অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটি ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশ যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে, তখন একাই ইনিংসের হাল ধরেন এই অলরাউন্ডার। তার অপরাজিত ১০৯ রানের অসাধারণ ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার আগে ২৬৩ রান সংগ্রহ করে। দিনের শেষ ভাগে বল হাতেও দারুণ সূচনা করেন টাইগার পেসাররা। হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম দিন শেষ করে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে। ফলে প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ২১২ রানে পিছিয়ে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই সুবিধা করতে পারেননি সফরকারীদের ব্যাটাররা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফিরে যান ওপেনার তানজিদ হাসান। হ্যানো জ্যাকবসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। অন্য প্রান্তে সাদমান ইসলাম কিছুটা ইতিবাচক ব্যাটিং করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪৭ বলে ৩১ রান করে কোরির শিকার হন তিনি। এরপর মুমিনুল হকও ৫৮ বলে ১৬ রান করে একই বোলারের বলে আউট হন।
দলীয় ৬১ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর একই স্কোরে শূন্য রানে ফিরে যান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। মাত্র চার বল খেলেই কোরি তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। চাপের মুখে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৫৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার। তবে দলীয় ১০৫ রানে তিনিও বিদায় নিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অমিত হাসান ৬১ বলে ১৫ রান করে চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১১০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল শঙ্কা, ঠিক সেই সময় সামনে এগিয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়েন তিনি। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক হন। সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন। সৌম্য ১৬ রান করে ফিরলেও মিরাজ থামেননি। এরপর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি।
তাইজুল ১০ রান করেন। হাসান মাহমুদ মাত্র ৪ রান করলেও শেষদিকে খালেদ আহমেদকে নিয়ে মূল্যবান ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬০-এর ঘরে নিয়ে যান মিরাজ। খালেদ ২৮ বলে ১৫ রান করেন, যেখানে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা। মিরাজ ১৪১ বলে অপরাজিত ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। চাপে পড়া দলকে উদ্ধার করার পাশাপাশি লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে ইনিংস গড়ে তোলার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেন তিনি। বাংলাদেশের ২৬৩ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন প্রধান পার্থক্য গড়ে দেওয়া ব্যাটার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অফস্পিনার কোরি। ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। জ্যাকবস, ক্যাম্পবেল থম্পসন, জেভিয়ার ক্রোন ও জের্সিস ওয়াদিয়া একটি করে উইকেট নেন। ২৬৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সফল হয় বাংলাদেশের নতুন বলের আক্রমণ।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদ মাত্র ১ রানে ফেরান স্যাম কনস্টাসকে। এরপর তাসকিন আহমেদ নিজের দ্বিতীয় ওভারে ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে শূন্য রানে বোল্ড করে স্বাগতিকদের স্কোর ১ রানে ২ উইকেট করে দেন। দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা দলকে ৫১ রানে নিয়ে যান। প্যাটারসন ২৭ বলে ২৬ এবং ফিলিপ ৩৬ বলে ২২ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ চার ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেন। তাসকিনও একটি উইকেট শিকার করেন, যদিও তিনি ২৪ রান খরচ করেন। খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।