নিঃশ্বাসের মূল্য, ভালোবাসা আর প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ- এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সীমিত দৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’। ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটি বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক মাহফুজ নাজিম মাপেল জানান, ব্যক্তিগত এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণের প্রেরণা পেয়েছেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার বাবা দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সেই সময় একজন মানুষের নিঃশ্বাসের জন্য সংগ্রাম তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মাপেলের ভাষায়, ‘বাবাকে যে নিঃশ্বাসটা এনে দিতে পারিনি, সেটাই যেন পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চাই, দর্শক সিনেমাটি দেখে অন্তত একবার উপলব্ধি করুক- বুক ভরে শ্বাস নিতে পারা কত বড় আশীর্বাদ।’
নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ঢাকার ক্রমাবনতিশীল বায়ুদূষণ এবং পরিবেশ সংকট থেকেই গল্পটির ভাবনা এসেছে। তার মতে, এটি কল্পবিজ্ঞান নয়; বরং বর্তমান বাস্তবতারই সামান্য এগিয়ে থাকা এক প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রটিতে তন্বী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ এবং তূর্য চরিত্রে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। নওশাবা বলেন, “পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ আমার জীবনের অন্যতম বিশেষ একটি কাজ। এই চরিত্র আমাকে জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।’ অন্যদিকে ইমতিয়াজ বর্ষণের ভাষায়, ‘এটি শুধু একটি গল্প নয়, বরং নিঃশ্বাসের জন্য মানুষের সংগ্রামের কাব্য। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের পরিণতি কী হতে পারে, সেই আশঙ্কাই ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে।’ নির্মাতার মতে, ছবিটি মূলত মানুষের গল্প। যেখানে একটি গাছ শুধু প্রকৃতির প্রতীক নয়, বরং সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।