মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 13, 2026
September 22, 2026
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

Published: September 22, 2026 at 01:31 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

আরিফুল ইসলাম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্তমানে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে জেলাশহরের ১৫০টি বাড়িতে কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে ৫৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ৩৬% বাড়িতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সদর ছাড়াও শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাটে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে

ডেঙ্গু শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও জনজীবনের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।

ডেঙ্গু রোগের প্রধান বাহক এডিস মশা। এই মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই আমাদের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, ডাবের খোসা কিংবা যে কোনো স্থানে পানি জমে আছে কিনা, নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর থেকে গ্রাম— সব জায়গাতেই আমাদের সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। শুধু মশা মারার ওষুধ ছিটালেই হবে না; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির আশপাশ ভালোভাবে পরিদর্শন করতে পারে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা ফেলে দিতে হবে অথবা পাত্রটি পরিষ্কার করে রাখতে হবে। পানির ট্যাংক ও অন্যান্য পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে। একই সঙ্গে দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে— ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নয়। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক— সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কেউ হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

আমাদের সামান্য সচেতনতা একটি পরিবারকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই আসুন, আমরা নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখি, অন্যকেও সচেতন করি এবং সম্মিলিতভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করি।

আমাদের অঙ্গীকার হোক— “জমে থাকা পানি রাখব না, এডিস মশার প্রজনন হতে দেব না; নিজে সচেতন হবো, অন্যকেও সচেতন করব; ডেঙ্গুমুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ— সব পর্যায়েই সচেতনতা প্রয়োজন।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধান করণীয়গুলো হলো

জমে থাকা পানি অপসারণ : ফুলের টব, বালতি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, ছাদ ও নির্মাণস্থলের পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

পানি রাখার পাত্র ঢেকে রাখা : ঘরের পানির ট্যাংক, ড্রাম ও অন্যান্য পাত্র ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে।

বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা : মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

মশার কামড় থেকে সুরক্ষা : দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে লম্বা পোশাক, মশারি বা অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাড়ির ভেতর-বাইরে নিয়মিত পরিদর্শন : সপ্তাহে অন্তত একবার কোথাও পানি জমেছে কিনা তা পরীক্ষা করা ভালো।

সামাজিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান : পাড়া-মহল্লা, স্কুল ও কর্মস্থলে সম্মিলিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

জ্বর হলে সতর্ক হওয়া : হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি ইত্যাদি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

শেষ কথা, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় এড়িয়ে চলা। শুধু সরকার বা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক পরিবার ও নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতাই ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আরিফুল ইসলাম : লেখক