মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 13, 2026
September 28, 2026
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

ফেসবুকে কিছু শেয়ার করার আগে ভাবুন

Published: September 28, 2026 at 02:10 PM
ফেসবুকে কিছু শেয়ার করার আগে ভাবুন

তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক


তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মানুষের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি যেন একটি ছোট্ট পৃথিবী। এই ছোট্ট যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি ছবি, একটি ভিডিও কিংবা কয়েক লাইনের লেখা হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হচ্ছে ফেসবুক।

ফেসবুক এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচার, সামাজিক সচেতনতা, সংবাদ, বিনোদন, জনমত তৈরি— সবকিছুতেই এর ব্যবহার রয়েছে। একজন সাধারণ মানুষ যেমন এখানে নিজের কথা বলতে পারেন, তেমনি একজন সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গবেষক কিংবা সমাজকর্মীও মানুষের কাছে নিজের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন।

কিন্তু সুযোগ যত বড়, দায়িত্বও তত বেশি। একটি ভুল কথা যেমন কয়েকজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, তেমনি ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভুল তথ্য কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। আর একবার কোনো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সেটি সংশোধন করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এখানেই আমাদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।

ফেসবুকের একটি ক্লিকেরও প্রভাব আছে

আমরা অনেক সময় কোনো পোস্ট দেখেই সেটি শেয়ার করে দিই। হয়তো শিরোনামটি চমকপ্রদ, ছবিটি আবেগঘন কিংবা কথাগুলো আমাদের নিজের চিন্তার সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজন অনুভব করি না।

কিন্তু একটি পোস্ট শেয়ার করার অর্থ শুধু নিজের টাইমলাইনে সেটি প্রকাশ করা নয়। এর মাধ্যমে আমরা মূলত সেই তথ্যের একজন পরিবেশক হয়ে যাই।

তথ্যটি সঠিক হলে ভালো। কিন্তু তথ্যটি ভুল হলে? তখন ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ও আমাদের ওপর কিছুটা বর্তায়। বিশেষ করে কোনো মানুষের মৃত্যু, দুর্ঘটনা, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ হওয়া, অপরাধ, পারিবারিক বিরোধ, অর্থনৈতিক প্রতারণা কিংবা সামাজিকভাবে স্পর্শকাতর কোনো ঘটনা নিয়ে পোস্ট করার আগে কয়েকবার চিন্তা করা উচিত। কারণ মানুষের জীবন নিয়ে তৈরি করা কোনো ভুল খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের জন্য ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মৃত্যুসংবাদে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা দরকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো মৃত্যুসংবাদ। কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন— এমন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। একজন কোনো পোস্ট করলেন, দ্বিতীয়জন সেটি শেয়ার করলেন, তৃতীয়জন নিজের মতো করে লিখলেন— এরপর দেখা গেল, মানুষটি জীবিত অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে গেছে। 

এ ধরনের ভুল শুধু বিব্রতকর নয়, অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

মৃত্যুসংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিবারের সদস্য, হাসপাতাল, চিকিৎসক বা দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শুধু অন্যের পোস্ট দেখে কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা উচিত নয়।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— মৃত ব্যক্তির ছবি দিতে গিয়ে তার জীবিত সন্তান, বাবা-মা কিংবা অন্য স্বজনের এমন ছবি ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে প্রথম দেখায় মনে হয় ছবির মানুষটিই মারা গেছেন। এতে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

গুজবের গতি সত্যের চেয়ে অনেক বেশি

গুজব কখনো কখনো আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একটি পুরোনো ছবি, একটি ভিডিও কিংবা কয়েকটি আবেগপ্রবণ বাক্যই যথেষ্ট।

অপরাধের অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়

ফেসবুকে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো ব্যক্তিকে চোর, প্রতারক, ধর্ষক, সন্ত্রাসী কিংবা অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ এবং প্রমাণ এক জিনিস নয়।

কেউ অপরাধের অভিযোগে আটক হতে পারেন; কিন্তু আদালতের বিচার ও প্রমাণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে তাকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আর কোনো ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে ধরে মারধরের দৃশ্য দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে সেটি শেয়ার করা আরো ভয়ংকর। কারণ সন্দেহ কখনো অপরাধের প্রমাণ হতে পারে না।

গুজবের ভিত্তিতে মানুষকে গণপিটুনি দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও আমাদের সমাজে ঘটেছে। একটি ভুল তথ্যের কারণে একজন নিরপরাধ মানুষের জীবন পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তাই অপরাধ সম্পর্কিত কোনো পোস্ট দেখলে আবেগের পরিবর্তে বিবেককে সামনে আনতে হবে।

ভুক্তভোগীর ছবি প্রচার নয়, সুরক্ষা প্রয়োজন

অপরাধের ঘটনা প্রচারের সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি মানবিক হতে হয় ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে। বিশেষ করে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা কোনো সংবেদনশীল অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছবি, নাম, ঠিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তার পরিচয় সহজে শনাক্ত করা যায়।

অনেক সময় বেশি ভিউ, লাইক কিংবা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এটি কোনোভাবেই সচেতনতা তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি নয়।

সচেতনতা তৈরি করতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পথ দেখাতে হবে। একজন ভুক্তভোগীকে দ্বিতীয়বার সামাজিকভাবে আঘাত করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।

অস্ত্র, রক্তাক্ত দৃশ্য ও সহিংসতার প্রচার বিপজ্জনক

কেউ অস্ত্র হাতে রাস্তায় দৌড়াচ্ছে, মারামারি হচ্ছে, কাউকে আঘাত করা হচ্ছে— এমন দৃশ্য অনেক সময় ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত সহিংস ছবি ও ভিডিও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। শিশু-কিশোরদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ভিডিও প্রয়োজন হলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি দায়িত্বশীল কাজ হতে পারে; অপ্রয়োজনে সেটিকে বিনোদনের উপাদান বানানো নয়।

ধর্মীয় বিষয়ে আবেগ নয়, দায়িত্বশীলতা

ধর্ম মানুষের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জায়গা। তাই ধর্মীয় কোনো বক্তব্য, ছবি কিংবা ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কেউ একটি ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ করলেই সেটিকে সত্য ধরে নেয়া উচিত নয়। ছবি বা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী, সেটি আসল কিনা, পুরোনো কোনো ঘটনা নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে কিনা— এসব যাচাই করা জরুরি।

কারণ ধর্মীয় বিষয়ে একটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট মুহূর্তেই উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব ব্যক্তিগত পর্যায় ছাড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত বিরোধ ফেসবুকের বিষয় নয়

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, ভাই-বোনের ঝগড়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, ব্যবসায়িক অংশীদারের দ্বন্দ্ব কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্কের সমস্যা— এসব ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সামান্য বিরোধ হলেই অনেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। কখনো ইঙ্গিতপূর্ণ কথা, কখনো ব্যক্তিগত ছবি, কখনো অডিও কিংবা ভিডিও প্রকাশ করেন। সমস্যা হলো— রাগের সময় দেওয়া একটি পোস্ট হয়তো কয়েক মিনিটের মধ্যে দেওয়া যায়, কিন্তু সেটি ইন্টারনেট থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা অনেক সময় সম্ভব হয় না। আজ যার বিরুদ্ধে লিখছি, কাল হয়তো তার সঙ্গেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু অনলাইনে প্রকাশিত অপমানজনক কথা, ছবি কিংবা ভিডিও বহুদিন থেকে যেতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান ব্যক্তিগতভাবেই করা বুদ্ধিমানের কাজ।

নিজের তথ্য নিজেই ফাঁস করবেন না

ডিজিটাল নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন, ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা উচিত নয়। অনেকে আবার কোনো ফর্ম পূরণ করার পর সেটির ছবি তুলে পোস্ট করেন। কখনো পুরস্কার পাওয়ার খবর জানাতে গিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে ফেলেন।

মনে রাখতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য শুধু পরিচিত মানুষই দেখবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।

সন্তানদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি

বাবা-মায়েরা সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাদের ছবি ও সাফল্যের গল্প ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এটি স্বাভাবিক। তবে সন্তানের স্কুলের নাম, নিয়মিত যাতায়াতের সময়, বাসার অবস্থান, প্রতিদিনের রুটিন, অ্যাকাডেমিক নথি কিংবা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করার আগে ভাবা প্রয়োজন। একটি শিশুর ছবি সুন্দর লাগছে বলেই সেটি পৃথিবীর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়া জরুরি নয়। সন্তানের ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হচ্ছে— এই বিষয়টিও অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে।

ছবি মানেই সত্য নয়

আমরা অনেক সময় একটি ছবি দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন ছবি সম্পাদনা, পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, ভিডিও কাটাছেঁড়া করা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফলে কোনো ছবি দেখেই বলা যাবে না— “আমি নিজের চোখে দেখেছি।”

কারণ ফেসবুকে আমরা যে ছবি দেখি, সেটি হয়তো কোনো ঘটনা থেকে নেয়া হলেও তার সঙ্গে দেওয়া বর্ণনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হতে পারে। বিশেষ করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা।

যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে অন্তত কয়েকটি প্রশ্ন নিজেকে করা যেতে পারে— কে তথ্যটি দিয়েছে? তথ্যের উৎস কী? ঘটনাটি কবে ঘটেছে? অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে একই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি? ছবিটি আসল ঘটনার কিনা? এই পোস্ট শেয়ার করলে কারো ক্ষতি হতে পারে কি? আমি কি তথ্যটি নিশ্চিতভাবে জানি, নাকি শুধু অনুমান করছি?

এই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর যদি পরিষ্কার না হয়, তাহলে পোস্টটি শেয়ার না করাই ভালো। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নীতি হওয়া উচিত— আগে যাচাই, পরে প্রচার।


আমরা চাইলে মতামত দিতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, প্রশ্ন তুলতে পারি, কোনো ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করতে পারি। কিন্তু স্বাধীনতা কখনো দায়িত্বহীনতার নাম নয়। অন্যের সম্মান নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশ করা, ভুক্তভোগীকে অপমান করা কিংবা মানুষের মধ্যে ভয় ও বিদ্বেষ তৈরি করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুস্থ ব্যবহার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মানুষের পরিচয় শুধু তার নিজের পোস্টে নয়; তার শেয়ার করা পোস্টেও প্রতিফলিত হয়।

ফেসবুককে নিরাপদ রাখতে ব্যবহারকারীকেই সচেতন হতে হবে। ফেসবুক নিজে ভালো বা খারাপ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম। আমরা কীভাবে এটি ব্যবহার করছি, সেটিই মূল বিষয়।

এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেমন ব্যবসার প্রসার ঘটানো যায়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া যায়, দুর্যোগের সময় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, শিক্ষামূলক তথ্য ছড়ানো যায়; তেমনি অসতর্ক ব্যবহারকারীর মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, প্রতারণা ও সামাজিক অস্থিরতাও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আমাদের প্রয়োজন শুধু ফেসবুক ব্যবহারের দক্ষতা নয়, ফেসবুক ব্যবহারের নৈতিকতা। মনে রাখতে হবে, একটি পোস্টের পেছনে একজন মানুষের জীবন থাকতে পারে। একটি ছবির পেছনে একটি পরিবারের সম্মান থাকতে পারে। একটি গুজবের পেছনে একটি নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা থাকতে পারে।

তাই ফেসবুকে কিছু দেখলেই শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন— এটি কি সত্যিই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেয়া দরকার?

ফেসবুকে একটি ‘শেয়ার’ হয়তো আপনার কাছে মাত্র এক সেকেন্ডের কাজ। কিন্তু সেই শেয়ারের প্রভাব অন্য কারো জীবনে অনেক দীর্ঘ হতে পারে।

তাই আসুন, শেয়ার করার আগে একবার ভাবি— তথ্যটি সত্য কিনা, প্রয়োজনীয় কিনা এবং এতে কারো ক্ষতি হবে কিনা। সচেতন ব্যবহারকারীই পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুজবের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে।


তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক : প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক ও সম্পাদক, স্বর্ণালী সাহিত্য পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ