নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে গ্যারি সোবার্সকে সম্মান জানাতে চেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ| কিন্তু স্পিনার গুডাকেশ মোটির দুর্দান্ত পাঁচ উইকেটের পরও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারল না স্বাগতিকদের| নাটকীয় এক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের শ^াসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড| বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে ১৮৯ রানের লক্ষ্য ৪৪.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় সফরকারীরা| এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা| টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার| তার বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি|ইনিংসের শুরুতেই জাস্টিন গ্রিভসকে ফিরিয়ে দেন নাথান স্মিথ| এরপর স্পিন আক্রমণে এসে জোড়া আঘাত করেন স্যান্টনার| প্রথমে ৩৩ রান করা অ্যাকিম অগাস্টেকে এলবিডব্লিউ এবং পরে ১৩ রান করা কিসি কার্টিকে টম ল্যাথামের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি| দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে মাত্র ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ| এরপরও ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আমির জানগু|
এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি| শেষদিকে তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন গুডাকেশ মোটি| ব্যাট হাতেও কার্যকর ভূমিকা রেখে ৫৬ বলে ৪১ রান করেন এই বাঁহাতি স্পিনার| দুজনের সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে ৮১ রান, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| তবে শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা| ৪৪.৪ ওভারে ১৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস| নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ ফিশার ৩টি উইকেট নেন| স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল শিকার করেন দুটি করে উইকেট| মাত্র ১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড| ইনিংসের প্রথম বলেই হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে দেন ম্যাথিউ ফোর্ড| এরপর নিক কেলি ও উইল ইয়ংও দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৪৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা| সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন মার্ক চ্যাপম্যান| দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮২ বলে ৮০ রান করেন তিনি|
তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা| টম ল্যাথাম দ্রুত আউট হলেও মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিউজিল্যান্ডের দিকে নিয়ে যান চ্যাপম্যান| ব্রেসওয়েলও ৩১ বলে ৩২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন| নিউজিল্যান্ড যখন ১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে, তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনেন গুদাকেশ মোতি| প্রথমে ব্রেসওয়েলকে বোল্ড করেন| এরপর চ্যাপম্যানকে ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন| সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি| জ্যাকব ডাফি ও ম্যাথিউ ফিশারকেও আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন| মুহূর্তেই ১৪৯/৫ থেকে ১৮০/৯-এ নেমে আসে নিউজিল্যান্ড| জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ৯ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট| এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অসাধারণ ˆধর্যের পরিচয় দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার| শেষ ব্যাটার জেডেন লেনক্সকে সঙ্গে নিয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন তিনি| অপরাজিত ৫৬ বলে ৩৪ রান করে দলকে জয় এনে দেন স্যান্টনার| অন্যপ্রান্তে লেনক্স ১০ বল মোকাবিলা করেও রান না করলেও নিজের উইকেট অক্ষত রেখে অধিনায়ককে দারুণ সমর্থন দেন| ৪৪.১ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান তুলে ৩৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড| ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মোটি ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করে ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন| ম্যাথিউ ফোর্ড নেন ২টি উইকেট, আর জেডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ একটি করে উইকেট পান| তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার| প্রথমে বল হাতে ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, এরপর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে রুদ্ধশ^াস জয় এনে দেন| তাঁর এই অলরাউন্ড ˆনপুণ্যেই ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে স্যান্টনারের হাতে| এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড|