বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে শুধু ব্রোঞ্জ পদকই হাতছাড়া করেনি ফ্রান্স| ম্যাচটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসেও লিখে দিয়েছে এক বিব্রতকর অধ্যায়| প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করেছে লে ব্লুরা| মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড| তৃতীয় মিনিটে ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা| এরপর ১৮ মিনিটে কর্নার থেকে এজরি কনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন| ৩৭ ও ৪৫+১ মিনিটে বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড| ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯২৭ সালের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোল হজম করল ফ্রান্স|
জাতীয় দলের ১৯০৪ সালে যাত্রার পর থেকে ৯০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটেনি| সবশেষ ১৯২৭ সালের ১২ জুন বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে বিরতির আগেই ছয় গোল হজম করেছিল ফ্রান্স| সেদিন হাঙ্গেরি শেষ পর্যন্ত ১৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল| ম্যাচটির প্রথমার্ধেই ১৭, ২৫, ২৬, ৩০, ৩২ ও ৪১ মিনিটে ছয়বার জালের দেখা পায় হাঙ্গেরি| সেই ১৩-১ হার এখনো ফ্রান্সের ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম পরাজয়| তাদের সবচেয়ে বড় দুটি হার আরও পুরোনো- ১৯০৮ অলিম্পিকে ডেনমার্কের কাছে ১৭-১ এবং ১৯০৬ সালে ইংল্যান্ডের অপেশাদার দলের কাছে ১৫-০| ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে চার গোল হজমের আগেই আরেকটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছিল| প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করার ঘটনাও ফ্রান্সের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ বছর পর ঘটেছে|
সর্বশেষ ১৯৫৭ সালের ২৭ নভে¤^র ওয়ে¤^লিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বিরতির আগেই ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল ফরাসিরা| সেদিন টমি টেইলর জোড়া গোল এবং ববি রবসনের এক গোলে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৪-০ ব্যবধানে জয় পায়| বিশ^কাপ বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসেও এর আগে কখনো প্রথমার্ধে চার গোল হজম করেনি ফ্রান্স| ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি শুধু সাম্প্রতিক নয়, বিশ^কাপ ও ইউরোর ইতিহাসেও তাদের সবচেয়ে বাজে প্রথমার্ধগুলোর একটি হয়ে থাকবে| তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স| কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন, একটি গোল করানও| ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দে¤ে^লেও গোল করেন| একসময় ব্যবধান ৪-৩-এ নামিয়ে এনে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল| কিন্তু বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা পেনাল্টি এবং যোগ করা সময়ে জুদ বেলিংহামের গোল ফ্রান্সের সব আশা শেষ করে দেয়| শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে হেরে বিশ^কাপ শেষ করতে হয় লে ব্লুদের| সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই লজ্জার রেকর্ডটি গড়ে উঠল দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচেই| ২০১২ সাল থেকে ফ্রান্সের দায়িত্বে থাকা এই কোচের অধীনে দলটি ২০১৮ সালে বিশ^কাপ জিতেছিল এবং ২০২২ সালে হয়েছিল রানার্সআপ| কিন্তু ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের শেষটা হলো প্রায় এক শতাব্দীর সবচেয়ে বাজে রক্ষণাত্মক প্রথমার্ধের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে|