শনিবার ০৯ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলোচনাকালে বক্তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহভাজন আরো ১০ শিশু ভর্তি বারঘরিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ, তিনজন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে ডায়ারিয়া আক্রান্তের হার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের সমস্যার কথা শুনলেন মুজিবুর রহমান এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আরো ৬৪ জন রহনপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার অবসরজনিত বিদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ৮ ইভেন্টের জমজমাট আসর চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহভাজন ৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
Printed on: May 09, 2026
April 22, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ছবি তুলছিল পাইলট, মাঝ আকাশে ২ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

Published: April 22, 2026 at 04:43 PM
ছবি তুলছিল পাইলট, মাঝ আকাশে ২ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

২০২১ সালে মাঝ-আকাশে দুটি যুদ্ধবিমান বিমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল| দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, পাইলটরা ছবি ও ভিডিও করতে গিয়ে এই সংঘর্ষ হয়| সিউলের অডিট ও পরিদর্শন বোর্ডের মতে, বিমান দুটি মধ্য কোরিয়ার দেগু শহরে একটি ফ্লাইট মিশনে ছিল, তখন এই ঘটনাটি ঘটেছিল| সংঘর্ষের পর পাইলটরা অক্ষত ছিলেন| কিন্তু সংঘর্ষে বিমান দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়| যুদ্ধবিমানগুলো মেরামতের জন্য সামরিক বাহিনীর ৮৮০ মিলিয়ন ওন (৫ লাখ ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার, ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ পাউন্ড) খরচ হয়| পাইলটদের মধ্যে একজনকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়েছিল|

পরবর্তীতে তিনি সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেন| ওই পাইলট তার সামরিক ইউনিটের সঙ্গে শেষ ফ্লাইটটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন, তখনই এ ঘটনা ঘটে| বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অডিট বোর্ড বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের ছবি তোলা ওই সময়ে পাইলটদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত অভ্যাস ছিল| প্রতিবেদন অনুসারে, পাইলট ফ্লাইটের আগে একটি ব্রিফিংয়ে এমনটি করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন| তিনি উইংম্যান পাইলট বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশন চলাকালীন অন্য যুদ্ধ বিমানটিকে অনুসরণ করছিলেন| ঘাঁটিতে ফেরার পথে তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন| উইংম্যান সাধারণত সামরিক বিমান চালনায় একটি বিশেষ ভূমিকা পালনকারী বিমান বা পাইলটকে বোঝায়| যুদ্ধের সময় যখন দুটি যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ওড়ে, তখন সামনে থাকা মূল বিমানটিকে বলা হয় ‘লিড’ এবং তার ডান পাশে কিছুটা পেছনে থেকে যে বিমানটি পাহারা দেয় বা সহায়তা করে, তাকে ‘উইংম্যান’ বলা হয়|

ঘটনার সময় যুদ্ধবিমানের পাইলট ভিডিও শুরু করেন| ভিডিও করতে গিয়ে পাইলট তার বিমান হঠাৎ ওপরে তুলে উল্টে দেন| এতে দুইটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে| দুর্ঘটনা এড়াতে আগের বিমান নিচে নামতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত দুটি এফ-১৫কে জেটের মধ্যে ধাক্কা লাগে| এতে একটির বাঁ ডানা এবং অন্যটির লেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়| এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনী উইংম্যান পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে| পরে তিনি চাকরি ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক বিমান সংস্থায় যোগ দেন| বিমান মেরামতের খরচ হিসেবে তার কাছ থেকে ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা চাওয়া হয়| তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করলে তদন্ত শুরু হয়| পাইলট ¯^ীকার করেন, তার কারণেই দুর্ঘটনা হয়েছে| তবে তিনি বলেন, অন্য পাইলট বিষয়টি জানতেন এবং নীরবে সম্মতি দিয়েছিলেন| শেষে তদন্ত বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়, পুরো জরিমানা নয়, তার মাত্র ১০ শতাংশ দিতে হবে|এ ছাড়া বোর্ড জানায়, পাইলটদের ব্যক্তিগত ক্যামেরা ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না রাখায় বিমান বাহিনীরও কিছু দায়িত্ব আছে| তদন্ত বোর্ড আরো বিবেচনা করেছে, এই ঘটনার আগে উইংম্যান পাইলটের রেকর্ড ভালো ছিল| দুর্ঘটনার পর তিনি দ্রুত পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনেন, ফলে আরো বড় ক্ষতি এড়ানো যায়| তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, এই ঘটনায় জড়িত অন্য পাইলটদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না|