রবিবার ০৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
Printed on: July 05, 2026
July 04, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

শিক্ষার্থীদের মনোবিকাশে মমতাজের বনভোজন

Published: July 04, 2026 at 03:22 PM
শিক্ষার্থীদের  মনোবিকাশে  মমতাজের বনভোজন


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শিশু শিক্ষার্থীদের ¯^জন-সম্প্রীতির সম্পর্ক ও মনোবিকাশ স্থাপনের জন্য বনভোজনের আয়োজন করেন উত্তর রহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মমতাজ বেগম| 

গতকাল শনিবার পুনর্ভবা নদী ঘেঁষা রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন মহল্লায় ওই শিক্ষিকার নিজ বাড়িতে এই আয়োজন করা হয়| 

দিনব্যাপী এই আয়োজনে সকাল থেকে ৬০ জন শিশু শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন| তারা বাড়ি থেকে কোরবানির মাংস ও ১৫ টাকা করে চাঁদা দেন| তারা প্রতিভা বিকাশের জন্য কেরাত, গান, কবিতা, গজল, চিত্রাংকন, গম্ভীরাসহ নানা খেলাধুলায় অংশ নেন|

শিশু শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের প্রিয় শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই বনভোজন অংশ নিয়েছে| বাবা-মার কাছ থেকে ফ্রিজে রাখা কোরবানির মাংস ও ১৫ টাকা করে নিয়ে এসেছি| বাড়িতে থাকা নতুন পোশাক পরে সেজে এসেজি| 

বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী শিশু ১ থেকে ৫ম শ্রেণীর| কয়েকজন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী অংশ নেন| তাদের মধ্যে উৎসব ও উৎসাহের সঞ্চার ঘটে|

প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম আক্তার বলেন, বনভোজনে অংশগ্রহণ করতে এসে ভালো লাগছে| পরিবারের কাছে অনুমতি নিয়ে এখানে এসেছি| বাড়িতে ফ্রিজে থাকা মাংস ও ১৫ টাকা নিয়ে চাঁদা দিয়েছি| অনেক আনন্দ করেছি| সূরা, কবিতা ও গানে অংশগ্রহণ করেছি| আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছেন মমতাজ ম্যাম|

লামিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, এর আগে এই রকম অনুষ্ঠানে অংশ নেইনি| মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে বসে সকলে খেয়েছি| সবার সঙ্গে বসে গল্প করেছি, সব ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি| অনেক মজা করেছি|

রিজভি নামে এক ছাত্র জানান, ম্যাডাম বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অনুষ্ঠানে করে থাকে| কখনো অংশ নিতে পারেনি| এবার প্রথম এসেছি| খুব ভালো লাগছে| 

প্রবীণ সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক মমতাজ বেগম সরকারি অনুষ্ঠানসহ পুরনো কৃষ্টিকালচার শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে নানা আয়োজন করে থাকেন| নবান্ন উৎসব, বিয়ের গীত, পিঠাপুলির, পোসালু, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেয়েরা নদী থেকে কলসি করে পানি আনাসহ নানা সংস্কৃতি নতুনদের কাছে তুলে ধরে থাকেন| তার আয়োজনগুলো খুবই প্রশংসনীয়|

আয়োজক মমতাজ বেগম বলেন, ¯^জন-সম্প্রীতির ভ্রাতৃত্ববোধের সম্পর্ক বন্ধন রাখতে ও মনোবিকাশ স্থাপনের জন্য এই আয়োজন| বিশেষ করে কোরবানির তিনটি ফজিলত তাদের কাছে ধরার জন্য এই আয়োজন| তাদেরকে শিখিয়ে দেওয়া তার উদ্দেশ্য| 

এছাড়া তিনি নতুনদের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো তুলে ধরতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন| তাকে পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা সহযোগিতা করে থাকেন| ভালো সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে এসব অনুষ্ঠান করতে চান বলে মমতাজ বেগম জানান|