রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, বন্ধ তিন বিভাগের সেবা নাচোলে ঈদগাহ ও গোরস্থানের উন্নতি কল্পে আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সারের জন্য ভোর থেকেই কৃষকের লাইন শিবগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এমপি কেরামত আলীর শিবগঞ্জ বিজিবি’র অভিযানে জব্দ নেশাজাতীয় সিরাপ, গ্রেপ্তার একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরো ৩ শিশু হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৫৫ রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহভাজন ১ জন শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনভর্বার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
Printed on: August 09, 2026
April 21, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দিয়ে ৮ কোটি মানুষের জীবন বাঁচানো যেতো

Published: April 21, 2026 at 04:56 PM
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দিয়ে ৮ কোটি মানুষের জীবন বাঁচানো যেতো

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যা দিয়ে অল্প সময়েই কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল। গত সোমবার লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, তার সংস্থার পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। অথচ ইরান যুদ্ধের মাত্র ১২ দিনের খরচ দিয়েই এই বিশাল তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই যুদ্ধে দুই বিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে। অথচ আমার বাজেটে বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে সাব-সহারা ও পূর্ব আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে।


ট্রাম্পের সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ইরানকে বোমা মেরে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’র মতো উগ্র ভাষার কঠোর সমালোচনা করেন ফ্লেচার। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাতে বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী শাসকদের উৎসাহিত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে ফ্লেচার বলেন, সেখানে রাষ্ট্রনীতির চেয়ে ‘রিয়েল এস্টেট’ মানসিকতা বেশি কাজ করে। তারা প্রতিষ্ঠান বা নিয়ম-নীতির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা মনে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত রাখলে বেশি ফল পাওয়া যায়। তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে তাকে নোবেল দেওয়া হোক, কিন্তু বাস্তবে তা করে দেখাতে হবে।


যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক এই ব্রিটিশ কূটনীতিক নিজের দেশের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব কমেছে। বৈদেশিক সহায়তায় বড় ধরনের বাজেট কর্তন করায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে এখন যুক্তরাজ্যকে নিয়ে হাসাহাসি করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মানবিক সহায়তায় গভীর সংকট

ফ্লেচার জানান, বর্তমানে জাতিসংঘ এক ভয়াবহ অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো তাদের সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। গত তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ত্রাণকর্মীদের হত্যা করা এখন যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর কোনো বিচার নেই।’ তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কেবল বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ত্রাণকর্মীদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেন এবং যুদ্ধবাজদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান