পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও হ্যাঙ্গর নামটি আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনকে ঘিরে। চীনে কমিশনিংয়ের পর পাকিস্তানের প্রথম হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন এই সাবমেরিন ইসলামাবাদকে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দিতে পারে। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মর্নিং-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সাবমেরিনটিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কমোডর ওমর ফারুক। তিনি জানান, পাকিস্তান মোট আটটি হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। চীন থেকে সাবমেরিনটি পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের নৌ উপস্থিতি মূলত উত্তর আরব সাগরকেন্দ্রিক ছিল। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল। ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কারণে অঞ্চলটির গুরুত্ব ক্রমাগত বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে পাকিস্তানের এই আগ্রহ এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বেড়েছে। সামরিক পর্যায়েও বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও যৌথ কর্মকা-ের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর ফ্রিগেট পিএনএস সাইফ চট্টগ্রাম সফর করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনও পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম সফর। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাকিস্তানি নৌসম্পদকে আশ্রয় দেওয়ার বা সামরিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। যদিও সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে দেখা হচ্ছে। চীনে নির্মিত এসব সাবমেরিনে এয়ার-ইনডিপেনডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করার সক্ষমতা বাড়াবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের পিএনএস হ্যাঙ্গরের স্মৃতি পাকিস্তানের জন্য প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। তবে বর্তমান ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত বাস্তবতা সেই সময়ের তুলনায় অনেক ভিন্ন। গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর উভয় অঞ্চলে শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে না পারলেও অঞ্চলটিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দায় ডুবে শিশুর মৃত্যু
ডিবির অভিযানে বারঘরিয়ায় ইয়াবা জব্দ গ্রেপ্তার ২
বিশ্ব পরিবেশ দিবস : শেষ হলো প্রয়াসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
দুই শতাধিক জাত নিয়ে শুরু হলো ৩ দিনের আম মেলা
নিরাপদ উপায়ে আম উৎপাদন বিষয়ে সেমিনার
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ধন্যবাদ জানালেন পুতিন-জিনপিংকে
রাশিয়ার রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা ইউক্রেনের
মুক্তির আগেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে ‘ককটেল ২’
ছোটবেলা থেকেই আয়নার সামনে অভিনয় করে আসছি : আলিয়া
Printed on: June 18, 2026
June 18, 2026
আন্তর্জাতিক
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের
সর্বশেষ খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দায় ডুবে শিশুর মৃত্যু
Jun 18, 2026
ডিবির অভিযানে বারঘরিয়ায় ইয়াবা জব্দ গ্রেপ্তার ২
Jun 18, 2026
দুই শতাধিক জাত নিয়ে শুরু হলো ৩ দিনের আম মেলা
Jun 18, 2026
নিরাপদ উপায়ে আম উৎপাদন বিষয়ে সেমিনার
Jun 18, 2026