সোমবার ০৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 08, 2026
June 08, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, প্রাণ গেল অন্তত ১৯ জনের

Published: June 08, 2026 at 12:31 PM
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, প্রাণ গেল অন্তত ১৯ জনের

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে অনেক জায়গায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান জলিবির একটি রেস্তোরাঁ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাউথ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস শহরে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ যাচাই করছে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি দেশের সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়। জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট আকারের সুনামি ঢেউও রেকর্ড করা হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে একের পর এক আফটারশক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ১৩০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। সারাঙ্গানি উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সরকার সক্রিয়ভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মিন্দানাওয়ের মানুষকে আমরা কোনোভাবেই পেছনে ফেলে যাব না।” নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসও স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন বিশে^র অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। তাই বড় ধরনের কম্পনের পর দীর্ঘ সময় ধরে আফটারশক এবং সুনামির ঝুঁকি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। বিবিসি জানায়, উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।