চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক)। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন : এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে সনাক-টিআইবি’র পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জ্বীবাশ্মভিত্তিক উৎস থেকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের জন্য একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করতে হবে; নবায়নযোগ্য জ্বা লানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এই খাতসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর হ্রাস করতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে ভর্তুকি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে; নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; কার্যকর জলবায়ু প্রশমনের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সোলার প্যানেল ব্যাটারিসহ বিবিধ যন্ত্রাংশকে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১’ এর আওতায় বর্জ্যরে শ্রেণীবিভাগের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ সংশোধন করতে হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বা জনস্বার্থে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিবেশ আদালতে সরাসরি মামলা করার সুযোগ তৈরি করতে হবে; পরিবেশ বিষয়ক সংঘটিত অপরাধ বন্ধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা সংক্রান্ত আইন, নীতি ও পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ও টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করতে হবে; জলাভূমি দখল ও বন উজাড় বন্ধের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক সম্পদকেন্দ্রিক অভিযোজনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে; প্লাস্টিক দূষণসহ অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে; দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ই-বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে তার নির্দেশনা সম্বলিত একটি ‘দুর্যোগকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ প্রস্তুত করতে হবে; পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং জ্বালানি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই খাতগুলোতে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন- সনাকের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রেজা, সহসভাপতি আসরাফুল আম্বিয়া সাগর, গোলাম ফারুক মিথুন, ইয়েস উপকমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক আবীর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিবি’র এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকার, আশা’র ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া, সনাকের ইয়েস দলনেতা নাজমিন খাতুন। ১২ দফা দাবি সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন সনাকের ইয়েস সদস্য হাবিবা খাতুন। সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর শফিকুল ইসলাম।
মানববন্ধনে সনাক, ইয়েস, এসিজি সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও টিআইবি কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।