সোমবার ০১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 01, 2026
June 01, 2026
বিনোদন
বিনোদন

জ্যাকলিনের আইনি চাপ বাড়ল, চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল দিল্লির আদালত

Published: June 01, 2026 at 10:39 AM
জ্যাকলিনের আইনি চাপ বাড়ল, চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল দিল্লির আদালত

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার মামলায় নতুন মোড় এসেছে| দিল্লির একটি আদালত জ্যাকলিনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে| আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলার নথি ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট|


শনিবার পাটিয়ালা হাউস আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়| অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত শর্মা জানান, তদন্তে পাওয়া উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা প্রয়োজন| আগামী মঙ্গলবার (৩ জুন) এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে|


এই মামলার মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর| তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সংগঠিত অপরাধ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে| আদালত তার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্টের আওতায়ও অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে|


তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও জ্যাকলিন তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং তার কাছ থেকে মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছিলেন| আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অভিনেত্রী প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ রুপি মূল্যের বিভিন্ন উপহার গ্রহণ করেন|


মামলার নথি অনুযায়ী, জ্যাকলিনের বোন জেরাল্ডিন জে ওয়াকারের বিদেশি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার এবং ভাই ওয়ারেন জে ফার্নান্দেজের হিসাবে ২৬ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানো হয়েছিল| আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন জবানবন্দিতে জ্যাকলিন ¯^ীকার করেছিলেন যে তার বাবা-মায়ের জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুকেশের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল|


তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জ্যাকলিন| তার দাবি, সুকেশ চন্দ্রশেখর তাকে প্রতারণার মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িয়ে ফেলেছেন এবং তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না| বরং তিনি নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করে আসছেন|


মামলার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে| অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দি অবস্থায় সুকেশ চন্দ্রশেখর নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এবং সহযোগীদের মাধ্যমে প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নেন| তদন্ত চলাকালে সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে| এরপর থেকেই অভিনেত্রীর ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়|


কয়েক মাস আগে জ্যাকলিন এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও করেছিলেন| তিনি দাবি করেছিলেন, তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছে রয়েছে| তবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সেই আবেদন গ্রহণ করেনি|


আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে মামলাটি এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে| চার্জ গঠনের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে, যা এই আলোচিত মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে|


সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা