দেশে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ২৮ মে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে। এরই মধ্যে সোমবার থেকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ভোগ করছেন চাকরিজীবীরা।
গত রবিবার বিকেল থেকেই নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদ্যাপনের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘরে ফিরছেন মানুষ। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও আসছেন ঘরুমুখ এখানকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তারা কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে করে আসছেন। এর বাইরে বহুমানুষ নাড়ির টানে যেমন করে পারছেন তেমন করেই আসছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ট্রাকে করেও ফিরছেন। এই ট্রাকে করে ফিরতে গিয়ে টাঙ্গাইলের সেই রড ভর্তি ট্রাক উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। তবু মানুষ মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বাড়ি ফিরছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যের সাধ্য মোতাবেক গরু কিংবা ছাগল ক্রয় করেছেন কোরবানির জন্য। ঈদগাহ মাঠগুলো ইতোমধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূলে হলে মসজিদে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। জেলাশহরে ফকিরপাড়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম জামায়াত সকাল ৭টায় এবং সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে পুরাতন স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার অন্য ঈদগাহগুলোতে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সময় নির্ধারণ করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছিলেন, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৫৮৫টি ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮৩টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৬৩টি, নাচোল উপজেলায় ৬১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৪৮টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৩০টি ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঈদগাহের এই সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে বলেও জানা গেছে।
ঈদের নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিবেন। তবে জনসাধারণের চলাচল ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে রাস্তার পাশে যেন যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই করা না হয় এবং উচ্ছ্বিষ্টগুলো (রক্ত, হাড় ও বর্জ্য) যেন মাটির নিচে পুঁতে ফেলা এবং বর্জ্যগুলো যেন দ্রুত অপসারণ করা হয় সে বিষয়েও ওই প্রস্তুতিমূলক সভায় আহ্বান জানানো হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক বলেন-ঈদকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা ২টি করে এবং নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় ১টি পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মাঠে কাজ করছেন। তা ছাড়া যেসব এলাকায় সরু রাস্তার াকরণে পুলিশের গাড়ি প্রবেশ করতে অসুবিধা হবে সেসব রাস্তায় পুলিশের মোটর সাইকেল টহল থাকবে।