রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। গত রবিবার রাতে তারা পরিদর্শন করেন।
এ সময় ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ডিআইজি আয়োজক কমিটি এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে জানান, জেলার সকল পূজামণ্ডপে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়ামি ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) একরামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) জিয়াউর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
এদিকে সোমবারও পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহরের স্কুল-কলেজ রোডস্থ সুরেন্দ্রনাথ সিংহের ছোট ঠাকুরবাড়ি মন্দির ও বড় ইন্দারা মোড়ের প্রতাপচন্দ্র দাস দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন।
পরে আগত ভক্তদের উদ্দেশ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার। এ সময় তিনি বলেন, সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ, পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রেখে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলে মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করছে এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থা।
এসময় জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস পূজা শুরু হওয়র পর থেকে প্রতিদিন উপজেলাগুলোর বিভিন্ন মণ্ডপ পরির্দশন এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
প্রসঙ্গত, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১৬৪টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিটি মণ্ডপকে আইপি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গতবার জেলায় ১৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ৫টি বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৪টি মণ্ডপে এই পূজা অুনষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩২টি, নাচোল উপজেলায় ১৭টি ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হবে।