শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাষ্টমী। চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে মহাষ্টমী উদযাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দেবী দুর্গার পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, ব্রত, উপবাস ও সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে।
মহাসপ্তমী উদ্যাপনের পর সোমবার মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। এছাড়া মহাষ্টমীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার সন্ধিপূজা। পুরোহিতরা জানান, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিথী অনুযায়ী শুরু হয় দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা, এরপর শুরু হয় সন্ধিপূজা।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করছেন।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ বারঘরিয়ায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী ২২টি মূর্তি নিয়ে বাইশপুতুল মণ্ডপেও ভিড় জমছে। বারঘরিয়া বাইশপুতুল সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল হতে এ পূজাটি বংশানুক্রমিকভাবে হয়ে আসছে, যার পূর্তি ৩২১ বছর। এ পূজাটি অনুষ্ঠিত হতো গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালাকেন্দ্রিক। এর ইতিহাস রয়েছে, একসময় বন্যা হয়েছিল, বন্যার সময় এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় মায়ের সেই কাঠামোটি ভাসতে ভাসতে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে চলে আসে। কথিত রয়েছে, পূর্বপুরুষদের স্বপ্নে দেখায়, এখানে (বারঘরিয়া) এ পূজাটি করতে হবে। আজ অবধি পূজাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনের জন্য অজস্র দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে এখানে।