আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একাধিক নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সময় নষ্টের শাস্তি, টেস্টে গোলাপি বলের ব্যবহার, ওভারথ্রো এবং বলের আকার-ওজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন প্লেয়িং কন্ডিশন চালু করেছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর আগে শুরু হওয়া সিরিজে পুরোনো নিয়মই বহাল থাকবে। পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের জন্য সংশোধিত নিয়ম প্রকাশ করেছে আইসিসি।
সময় নষ্ট করলে ব্যাটারকে পেনাল্টি
নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না হলে ব্যাটারকে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কতা। তৃতীয়বার থেকে প্রতিবার ফিল্ডিং দল পাবে পাঁচ রান। প্রয়োজনে আচরণবিধি অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
দিনের টেস্টে গোলাপি বলের সুযোগ
খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধ হওয়া কমাতে দিনের টেস্টে পরীক্ষামূলকভাবে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে আইসিসি। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলকে এ বিষয়ে একমত হতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পুরো ম্যাচে গোলাপি বলই ব্যবহার করতে হবে; মাঝপথে বল পরিবর্তন করা যাবে না।
শেষ ওভারে উইকেট পড়লেই দিনের খেলা শেষ নয়
দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার অসম্পূর্ণ থাকলে বাকি বলগুলো একই দিনে করতে হবে, যদি আবহাওয়া ও মাঠের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে। এতে পরের দিনের খেলার সময় বাঁচানোর পাশাপাশি ফিল্ডিং দলও সুবিধা পাবে।
ওভারথ্রোর সংজ্ঞায় স্পষ্টতা
রান আটকানো বা রানআউট করার উদ্দেশ্যে বল স্টাম্পের দিকে ছুড়ে মারার চেষ্টা হলে সেটি ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে বা অন্য ফিল্ডারের কাছে পাঠানোর সময় মিসফিল্ড হলে তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে না।
বল হাতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যাখ্যা
রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় বলের ওপর ফিল্ডারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে শুধু হাতে বলের স্পর্শ থাকলেই চলবে না। বল কখন স্থির হয়েছে, তা নির্ধারণেও আম্পায়ারকে আরও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বল স্থির হওয়ার জন্য সেটি বোলার বা উইকেটকিপারের হাতেই থাকতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের আকার-ওজনে পৃথক মান
পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের আকার ও ওজনের পৃথক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে আইসিসি। আগে নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে একই ধরনের বল ব্যবহারের প্রচলন ছিল।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও পরিবর্তন
টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের মাঝের ১৫ মিনিটের বিরতি সময় নষ্ট হলে কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় প্রধান কোচ বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এ ছাড়া ওয়াইড বলের নিয়মও স্থায়ীভাবে প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত হয়েছে। ডেলিভারির আগে বা সময় ব্যাটার অবস্থান পরিবর্তন করলে ওয়াইড নির্ধারণে বল ছাড়ার মুহূর্তে তাঁর পায়ের অবস্থান বিবেচনা করা হবে। পরে অফ সাইডের দিকে সরে গেলে তা আর হিসাবে আসবে না।