চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ১১টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে বিস্ফোরণে ২ জন আহত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহারাজপুর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া ও শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরইমধ্যে শুক্রবার সকালে পৃথক স্থানে ৩টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কবিরাজপাড়া থেকে ১১টি ককটেল উদ্ধার করে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় আব্দুল ওদুদ ও জালাল উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধ আরো তীব্র হয়।
সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, বেলা ১২ টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এলাকায় আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া সেকেন্দার চৌধুরীর আম বাগানে অজ্ঞাতানামা কে বা কারা ১টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়ার মো. নবাব আলীর আম বাগানে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ককটেল বিস্ফোরণে কৃষ্ণগোবিন্দপুর পাঠানপাড়ার শাহাবুদ্দিনের ছেলে সুমেল (৩২), রামচন্দ্রপুর গোটিপাড়ার এলামের ছেলে আব্দুল হামিদ (১৮) আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত ব্যক্তিদের হাতের আঙ্গুল, হাড়সহ মাংসের বিভিন্ন অংশ এবং ১১ টি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। আহত ব্যক্তিদ্বয় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে আহত হয় এবং তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।