মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 13, 2026
September 29, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

বেশি পানি পান করলে কি আসলেই ওজন কমে?

Published: September 29, 2026 at 12:13 PM
বেশি পানি পান করলে কি আসলেই ওজন কমে?

ওজন কমানোর অন্যতম সহজ উপায় হিসেবে অনেক সময় বেশি করে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করা থেকে শুরু করে কোমল পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি পান করা পর্যন্ত, এই পরামর্শ সর্বত্রই শোনা যায়। কিন্তু বেশি করে পানি পান করলে কি সত্যিই তা ওজন কমাতে সাহায্য হয়, নাকি এটি কেবল আরেকটি জনপ্রিয় ডায়েটের দাবি?


উত্তরটি আরও সূক্ষ্ম। পানি নিজে শরীরের চর্বি পোড়ায় না, তবে পানি পান করা বিভিন্ন উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পান করা হয়। কিছু গবেষণায় এও দেখা গেছে যে, খাবারের আগে পানি পান করলে কারও কারও কম খেতে সাহায্য হতে পারে। তবে সামগ্রিক প্রমাণ মিশ্র। 


পানিতে কোনো ক্যালোরি নেই

পানি বেছে নেওয়ার অন্যতম স্পষ্ট সুবিধা হলো এতে কোনো ক্যালোরি নেই। তাই চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি পান করলে আপনার খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেই শক্তি গ্রহণের পরিমাণ কমানো যেতে পারে। ধারণাটি বেশ সহজ। পানি পাকস্থলীতে জায়গা নেয় এবং আপনাকে পেট ভরা অনুভব করাতে পারে, যা খাবারের সময় আপনার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তবে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে ঘটে না এবং খাবারের আগে পানি পান করাকে সুষম খাদ্যের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।


বেশি পানি পান করলে কি মেটাবলিজম বাড়ে?

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন যে ঠান্ডা পানি পান করলে শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায় কারণ শরীরকে পানি গরম করতে হয়। যদিও পানি পানের ফলে শক্তি ব্যয় এবং অন্যান্য বিপাকীয় প্রক্রিয়ার উপর স্বল্পমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, এর মানে এই নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে অনেক বেশি চর্বি কমবে। শুধুমাত্র পানি পানের পরিমাণ বাড়ালেই বিপাক ক্রিয়া নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় বা নিজে থেকেই অনেকটা ওজন হ্রাস ঘটে- এমন কোনো প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো বা অন্যান্য পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করলে শরীরের ওজন, বিএমআই (ইগও), বা কোমরের পরিধি কমে না। তবে চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি পান করলে সামান্য উপকারিতা দেখা যেতে পারে।


তৃষ্ণাকে কি কখনও কখনও ক্ষুধা বলে ভুল করা হয়?

ফিজিওলজি অ্যান্ড বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, মানুষ কখনও কখনও মনে করে যে তৃষ্ণার্ত থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধা লাগাটাই অতিরিক্ত খাওয়ার একটি প্রধান কারণ। যদিও শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য হাইড্রেটেড থাকা গুরুত্বপূর্ণ, তৃষ্ণা এবং ক্ষুধার মধ্যে সম্পর্কটি এই প্রচলিত অনেক বেশি জটিল। পানি পানের জন্য প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। নিয়মিত তরল গ্রহণ ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, যার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মনোযোগের অভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে আপনার ক্ষুধা পেলে, ক্ষুধা দমনের জন্য শুধু পানি পান করা উচিত নয়। আপনার শরীরের তখনও পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টির প্রয়োজন।


আপনার কতটা পানি পান করা উচিত?

এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই যা সবার জন্য উপযুক্ত। শরীরের আকার, কার্যকলাপ, আবহাওয়া, গর্ভাবস্থা, স্তন্যপান এবং অসুস্থতার মতো বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করে তরলের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হয়। ঘঐঝ (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) বেশিরভাগ মানুষকে দিনে প্রায় ৬ থেকে ৮ কাপ বা গ্লাস তরল পান করার পরামর্শ দেয়, তবে তারা এটাও উল্লেখ করে যে কিছু মানুষের এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। পানি, কম চর্বিযুক্ত দুধ এবং চা ও কফির মতো চিনিবিহীন পানীয় দৈনিক তরল গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। খাবার থেকেও কিছু পানি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে পানি পান করার জন্য নিজেকে জোর করার পরিবর্তে, তৃষ্ণা এবং আপনার প্রস্রাবের রঙকে ব্যবহারিক নির্দেশিকা হিসাবে ব্যবহার করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকে, তখন প্রস্রাব সাধারণত পরিষ্কার হালকা হলুদ রঙের হওয়া উচিত।


অতিরিক্ত পানি পান করলে কি দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব?

না। বেশি পানি পান করা মানেই সবসময় ভালো নয়। অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি পান করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয় এবং এটি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। শুধুমাত্র ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বলেই জোর করে কয়েক লিটার পানি পান করার কোনো প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, অতিরিক্ত পানি পান করা নয়।