মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি পরিস্থিতি মোকবিলা করতে হবে নভেম্বর পর্যন্ত নারায়ণপুরে পুঁতে রাখা ২০ ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক শিবগঞ্জে এসআরবি’র অভিযান : পৌনে ৭ কেজি হেরোইন জব্দ, একজন গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত রামেক হাসপাতালে মৃত্যু দুই ডেঙ্গু রোগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সচেতনতা বাড়াতে নারী সমাবেশ গোমস্তাপুরে ভারতের উত্তরপ্রদেশে টানা বৃষ্টি-বন্যায় ৩ দিনে ৬২ জনের মৃত্যু টানা বর্ষণ-বন্যা-ভূমিধসে নেপালে ৪ দিনে ২১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫ তহবিল সংকটে সহায়তা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী : জাতিসংঘ
Printed on: September 29, 2026
September 29, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার কিছু উপকারিতা

Published: September 29, 2026 at 12:13 PM
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার কিছু উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে থাকা দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ হজমের পাশাপাশি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে। ইসবগুলের ভুসি মূলত উদ্ভিদের বীজের বাইরের আবরণ থেকে তৈরি। এতে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ থাকে। পানির সংস্পর্শে এলে এই আঁশ পানি শোষণ করে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে। এতে মল নরম হয় এবং মলত্যাগ সহজ হতে পারে।


কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী

ইসবগুল পানির সঙ্গে মিশে অন্ত্রে মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। বিভিন্ন গবেষণাতেও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ইসবগুলের উপকারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পানি কম খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে অন্ত্রে বাধা তৈরির ঝুঁকিও থাকতে পারে।


রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ইসবগুলের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ খাবার হজম ও কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর করতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে করা একাধিক গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণেও ইসবগুল গ্রহণের সঙ্গে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও ঐনঅ১প কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ইসবগুল কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।


কমাতে পারে খউখ কোলেস্টেরল

ইসবগুলের দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রে পিত্ত অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে তা বের হতে সাহায্য করতে পারে। এতে শরীরকে নতুন পিত্ত অ্যাসিড তৈরিতে রক্তের কোলেস্টেরল ব্যবহার করতে হয়। ফলে খউখ বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। গবেষণায় ইসবগুল গ্রহণের পর খউখ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে শুধু ইসবগুলের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি।


ক্যানসার প্রতিরোধে কি ইসবগুল কার্যকর?

ইসবগুল নিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধের দাবির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইসবগুল মল দ্রুত বের হতে সহায়তা করায় ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে অন্ত্রের দেয়ালের সংস্পর্শের সময় কমতে পারে। পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করা এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে সহায়তা করার মতো সম্ভাব্য উপকার নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব সম্ভাব্য প্রক্রিয়া থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ইসবগুল খেলেই ক্যানসার প্রতিরোধ হবে। ইসবগুলকে ক্যানসারের প্রতিরোধক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়।


প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া কি নিরাপদ?

বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য উপযুক্ত পরিমাণে ইসবগুল সাধারণত নিরাপদ। তবে শুরুতেই বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। যাদের গিলতে সমস্যা আছে, অন্ত্রে কোনো বাধা রয়েছে বা গুরুতর পেটের সমস্যা আছে, তাদের ইসবগুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলেও চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। কারণ খাদ্যআঁশ কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।


কীভাবে খাবেন?

ইসবগুল সাধারণত পানি বা অন্য কোনো তরলে মিশিয়ে খাওয়া হয়। তরলে মেশানোর পর বেশি সময় অপেক্ষা না করে খেয়ে নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। তবে কতটা ইসবগুল খেতে হবে, তা ব্যক্তির বয়স, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।