চাঁপাইনবাবগঞ্জে চুরি হওয়া তিনটি মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার রানীহাটি-বৈলতলা থেকে তিনজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও শ্যামপুর এলাকা থেকে তিনজনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে মো. আব্দুস সালাম (২৪), দুর্লভপুর ইউনিয়নের দাদনচক গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৩), একই গ্রামের মো. সইফুলের ছেলে মো. আসিফ (২২), মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর মুন্নাপাড়ার মো. আলমের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৪), শ্যামপুর সাহাপাড়ার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ইমন রেজা (২৬), শ্যামপুর ইউনিয়নের কয়লাদিয়াড় গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মো. আশিক (২২)।
ওয়াসিম ফিরোজ আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রতিনিয়ত মাদক ও চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে জন্য অভিযান চালাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. জাহিদ হাসান ও এসআই মো. শাকিল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার বৈলতলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মোহাম্মদ আলী, মো. ইমন রেজা ও মো. আশিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি লাল রঙের হিরো এইচএফ ডিলাক্স ১০০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে শিবগঞ্জ উপজেলার সাহাপাড়া-মুন্সিপাড়ার সাদ্দাম হোসেন ও কয়লাদিয়াড় গ্রামের সুশান্ত সিংয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরো দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম ও সুশান্ত পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই মোটরসাইকেল চুরি ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা মোটরসাইকেল চুরির পর জেলার বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল বিক্রি করতে না পারলে এর পার্টস খুলে বিক্রি করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হবে বলে তিনি জানান।