রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
পদ্মায় নৌকাডুবি, বাংলাদেশী ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিএসএফ, ফিরিয়ে এনে পরিবারে হস্তান্তর করল বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি স্থির থাকলেও কষ্টে বানভাসি মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি শুরু বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা নদীর পানি বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছাত্রশিবির নেতার মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ধিত সভা টিজারেই চমক দেখালো ‘নয়ি নাভেল্লি’ ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা দিলেন বাঁধন
Printed on: September 13, 2026
September 12, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি স্থির থাকলেও কষ্টে বানভাসি মানুষ

Published: September 12, 2026 at 03:29 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি স্থির থাকলেও কষ্টে বানভাসি মানুষ


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি স্থির রয়েছে। বেড়েছে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি। তবে পদ্মার পানি স্থির থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওইসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় চার দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। এসব এলাকার আউস, আমন, মাসকলাইসহ ২০৬.৪ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। শনিবার সকাল ৯টায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে শনিবার সকাল ৯টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি স্থির ছিল।

অন্যদিকে মহানন্দা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ দশমিক ২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানিয়েছেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মায় ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে শনিবার পদ্মা নদীর পানি স্থির রয়েছে।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, পানি বাড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও ঘরের আঙিনা, কোথাও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গবাদিপশু, ঘরের আসবাব ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পাঁকা ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ পরিবারের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে এবং সব মিলিয়ে ইউনিয়নে ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত দুই দিনে ৪৬৬টি পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া বন্যার পানি নেমে গেলে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিতে পারে আশঙ্কায় তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন জানান, শনিবার পদ্মা নদীতে পানি না বাড়লেও স্থির রয়েছে। বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ। পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ চলছে। 

এছাড়া আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনও পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কথা জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মোট ২৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিতরণ শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০৬.৪ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ১২৪.৬ হেক্টর, শিবগঞ্জ ৭৬.৮ হেক্টর ও গোমস্তাপুর ৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরে ২০৬.৪ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধান ১১৩ হেক্টর, আমন ৫ হেক্টর, মাসকলাই ১০.৬ হেক্টর, শাকসবজি ৪০ হেক্টর, গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা দশমিক ৮০ হেক্টর, মরিচ ৩ হেক্টর, হলুদ ৪ হেক্টর, পেঁপে ২ হেক্টর, কলা ২৮ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।