চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৩ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানির সমতল ছিল ২১.৭৬ মিটার। এ নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫ মিটার। সেহিসেবে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা। অন্যদিকে একই সময়ে মহানন্দার পানির সমতল ছিল ১৯.৪৩ মিটার। এ নদীর পানি বিপৎসীমার ১.১২ মিটার ও পুনর্ভবা নদীর পানি ২.১৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, যে সব পরিবার মাটি তুলে উঁচুতে বসবাস করছে তারা এখনও ডুবেনি। তবে যারা নিচু জায়গায় বসবাস করছে তারা ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার হবে। তিনি আরো জানান, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। যোগাযোগের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। তিনি আরো জানান, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে চরের মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়বে।
এদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, পাঁকা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে ৩ শ পরিবারের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। নেকৗকা ছাড়া এগ্রাম থেকে ওগ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগযোগ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, ৫শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লাদিয়ে নদীও ভাঙছে। ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার ৫ উপজেলায় বৃষ্টি ও বন্যায় ৫৬.৫ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধান ২.৯ হেক্টর, আমন ৪ হেক্টর, মাস কলাই ৩১.৫ হেক্টর, শাক সবজি ১৪.২ হেক্টর, গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা ৩.৪ হেক্টর, হলুদ ০.৫ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।