চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে| শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্কে এই সমাবেশের আয়োজন করে জেলা কৃষক দল|
জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন— জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন|
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত| অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. দুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আ ক ম সাহেদুল আলম বিশ্বাস পলাশ ও সদস্য সচিব তাসেম আলীসহ অন্যরা|
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, গত নির্বাচনে সব আওয়ামী লীগের লোকজন জামায়াতকে ভোট দিয়েছে| আওয়ামী লীগ-জামায়াত ৮৬ সালে একসাথে নির্বাচন করেছে| এবার আবারো হাসিনার নির্দেশে দেশের ৯০ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট জামায়াতকে দিয়েছে| যেখানে জামায়াত কোনো দিন ১০ হাজার ভোট পায়নি, সেখানে ১ লাখ ভোট পেয়েছে| সেখানে কি বেহেশত থেকে ফেরেশতা এসে ভোট দিয়েছে? আওয়ামী লীগের ভোট ও নিজেদের ভোট মিলেই তাদের এমন অবস্থা হয়েছে|
সমাবেশে তিনি আরো বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি সুখে আছে বেহেশতিরা| সংসদে এক কথা বলে আর বাইরে এসে বলে, সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে ফেলে দেব| এত সস্তা, এত সহজ? ১৭ বছরে অনির্বাচিত সরকারকে আমরা-আপনারা বেহেশতি-দোযখি সবাই মিলে ফেলতে পারিনি| আর নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেবেন? তাদের কথা শুনে মনে হয়, তারা আওয়ামী লীগের এক্সটেনশন| বেহেশতিরা আওয়ামী লীগের এক্সটেনশন|
কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, বিএনপি নতুন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেছে| নির্বাচনী যতগুলো প্রতিশ্রুতি করেছে বিএনপি তা আগামী পাঁচ বছরে একে একে সবগুলো পালন করবে| ধনী, মধ্যম ও গরিব সকল কৃষকই পাবে কৃষক কার্ড| এসব কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণ করা হবে না| যারা বেহেশতি তারাও পাবে, আমরা যারা দোযখি তারাও পাবো| এমনকি যারা ফ্যাসিস্ট, তারাও পাবে এই কার্ড| এমন অনুকরণীয় উদাহরণ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তানের পক্ষেই সম্ভব| বাংলাদেশের সকল নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন|
তিনি বলেন, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে সরকার| তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প ও কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে| নতুন করে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর মিলনস্থলে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি|
হাসান জাফির তুহিন বলেন, বিগত সরকার শুধু লুটপাট করে গেছে| কৃষিকে ধ্বংস করে গেছে| প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই কৃষিকে এগিয়ে নিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে| তিনি বলেন, এই জেলায় তিনটি আসনের মধ্যে একটি আসনও আমরা পাইনি| তবুও প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের জন্য|
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে| আগামী ৫ বছরে এই চাঁপাইনবাবগঞ্জে এত কাজ করা হবে যা কেউ কল্পনাও করেনি| তিনি জানান, এখানে সারের কোনো সংকট থাকবে না|
প্রধান অতিথি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষেই কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব, শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব| তারেক রহমান কৃষকের টাকা মেরে খাবেন না, শ্রমিকের ঘামের টাকায় গাড়ি-বাড়ি করবেন না, বিলাসী জীবনযাপন করবেন না| তিনি সবসময় একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন| তিনি সবসময় দেশের কথা ভাবেন, দেশের মানুষের কথা ভাবেন| তাই তিনি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন| এই কার্ড দেশের সকল কৃষক পাবেন, এখানে কোনো দলীয়করণ করা হবে না|