“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ আগস্ট থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ শুরু হয়েছে। সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এছাড়া সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ইত্যাদি। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। র্যালিটি সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়। পরে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ড. এ কে এম শাহাব উদ্দীন।
আলোচনায় অংশ নেন- সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম, সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামশুন নাহার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মমতাজ বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও এনজিও প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা এই সপ্তাহে নবজাতকের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে মায়ের বুকের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই শিশুর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাই আসুন, বিষয়টি গ্রামে-গঞ্জে সকল মানুষকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মনে রাখতে হবে শিশুর জন্মের পর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই হচ্ছে একমাত্র খাবার। এই সময় পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করালে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একজন শিশু সুস্থ ও সবল হয়ে বেড়ে ওঠতে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই।
নাচোল প্রতিনিধি : শনিবার সকালে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ প্রাঙ্গণে এক র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে আয়োজনে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা নবীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহাদাত হোসেন, ইএমও ডা. সাহবুব হাসান এবং ডা. কারিমাতুননেসাসহ অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, মায়ের দুধ শিশুর জন্য সর্বোত্তম, নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে সুষম পুষ্টির আধার। শিশুর সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য জন্মের পরপরই শালদুধ প্রদান এবং প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পান করানো অত্যন্ত জরুরি। পরবর্তীতে দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তারা।
বক্তারা মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিতকরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।