চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে| জেলাশহর থেকে শুরু করে গ্রামেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ| তবে জেলাশহরের উদয়ন মোড়, হুজরাপুরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে|
বুধবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১২ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন| তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা ও ২ জন শিশুসহ ৯ জন জটিল রোগীকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| অন্য তিনজন সাধারণ রোগীকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে| বর্তমানে ১৫ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা ও ২ জন শিশুসহ ২২ জন রোগী জেলা হাসতপালে ভর্তি আছেন| গত দুই দিন থেকে হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে|
বুধবার দুপুরে জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নারে মশারির মধ্যে থাকা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা হয়| তাদের মধ্যে জেলাশহরের উদয়ন মোড় এলাকার রতন (৩০) গত ৪ দিন, একই এলাকার আকাশ (২৪) ৩ দিন, হুজরাপুর জলযোগ মোড় এলাকার শরিফুল ইসলাম (৪০) ২ দিন, আরামবাগ এলাকার বাবু (৩৫) ২ দিন, সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের মফিজুল ইসলাম গত ৪ দিন এবং জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গত ৫ দিন থেকে ভর্তি আছেন বলে জানান|
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার কীটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ রয়েছে| ডেঙ্গু মশাসহ অন্যান্য মশা নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি মশারির মধ্যে ঘুমানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান|
এদিকে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন— গতবার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শীতের সময় থেকেই ফগার মেশিন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়| ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশক নিধনে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিনে ধোঁয়া দেয়া হচ্ছে| গতবারের তুলনায় এবার আরো উন্নতমানের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে|
তিনি আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ডেঙ্গুর হট স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্প্রে করা হচ্ছে| তবে সবচেয়ে বড় কথা, পৌরবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন| মানুষ যদি সচেতন হয়, নিজের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন তাহলে অনেকটাই ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়|