চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাল্যবিয়ে নিরোধ সম্পর্কিত সচেতনতামূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়|
সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী| সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ|
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন— জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ময়েজ উদ্দিন, সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আলীমসহ অন্যরা|
সভায় বাল্যবিয়ে বন্ধে কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির সাধারণ ক্ষমতা, বাল্যবিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি, মিথ্যা অভিযোগ করার শাস্তি, বাল্যবিয়ে করার শাস্তি, বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির শাস্তি, বাল্যবিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনা করার শাস্তি, বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগী হবার শর্তে বাল্যবিয়ের অভিযোগ হতে অব্যাহতি, বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের জন্য বিয়ে নিবন্ধকের শাস্তি, লাইসেন্স বাতিল, বয়স প্রমাণের দলিলসহ বাল্যবিয়ে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়|
নিবন্ধকের ব্যাপারে বলা হয়, কোনো নিবন্ধক বাল্যবিয়ে নিবন্ধন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি অনধিক ২ বৎসর ও অন্যূন ৬ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং তার লাইসেন্স বা নিয়োগ বাতিল হবে|
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে যে যার অবস্থান থেকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে এসে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান| এছাড়া ব্যাপকভাবে প্রচারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন| এজন্য তিনি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটিকে আরো সক্রিয় করার ওপর জোর দেন|