চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে| এই ভাঙনে এর আগে হাজার হাজার পরিবার সর্ব¯^ হারিয়েছে| ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন|
উপজেলার চরাঞ্চলসহ তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ আবারো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা| ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছে নদী পাড়ের ৫০ হাজার মানুষ|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের বগলাউড়ি, মনোহরপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের কিছু অংশে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে| বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৩ কিলোমিটার পর থেকে এই ভাঙন শুরু হয়েছে| বগলাউড়ি, মনোহরপুর, ঝাইলপাড়া ও পন্ডিতপাড়া এলাকার প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে| জরুরি ভিত্তিতে জিও টিউব ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড| এই এলাকায় ভাঙন রোধে গৃহীত প্রকল্পের কাজ পরীক্ষা নীরিক্ষা চলছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে|
দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. আজম আলী বলেন— এবছর এখনো ঘরবাড়ি বিলীন না হলেও ভাঙনের মুখে রয়েছে অনেক পরিবার| যে কোনো সময় তীরবর্তী পরিবারগুলোর বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে| কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে| এছাড়া গতবছর প্রায় আড়াইশ পরিবার পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| শতশত বিঘা ফসলি জমি, আমবাগানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, এবছর পানি বৃদ্ধির পর থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর, বগলাউড়িসহ প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে| জিও টিউব ও ভালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এই ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে| এই ভাঙন প্রতিরোধে গৃহীত প্রকল্পের পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে বলে জানান তিনি|
এছাড়াও সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনয়িনে পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে|