চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরবাসীর ড্রেনের পানি রাবার ড্যামের বাইরে ফেলার পরিকল্পনা করছে পৌরসভা| রাবারড্যামের উজানে মহানন্দা নদীর পানি বিশুদ্ধ রাখতে এবং পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র সহায়তায় পৌরসভার ড্রেনগুলোর আউটফলের (পানি নিষ্কাশন) অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে| এ কাজের ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিটেইল ডিজাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে| এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ধাপে ধাপে বড় বড় ড্রেন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে| ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের সম্ভাব্য মেইন আউটফল হবে অর্থাৎ ড্রেনের পানি ফেলা হবে নবাব খাল, পৌরসভার হরিপুর শিবপুর ও বাহির টিকরামপুর আকন্দবাড়িয়া ঘাট এলাকায় মহানন্দা নদীতে| যা প্রকল্প প্রস্তাবনায় রয়েছে|
জানা যায়, বর্তমানে সিঅ্যান্ডবি ঘাট, নয়াগোলা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন বা আউটফল রয়েছে| বর্তমানে ড্রেনের পানি নদীতে ফেলা হচ্ছে| তবে আগামী দিনে এসব জায়গায় তা আর ফেলা যাবে না| কেননা মহানন্দার পানি শোধন করে পৌরবাসীকে সরবরাহ করা হচ্ছে| এছাড়া রাবারড্যাম নির্মাণের ফলে এখন ১২ মাস পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে| ড্রেনের পানি অব্যাহতভাবে মহানন্দায় ফেলা হলে পানি দূষণ হবে এবং ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়বে, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হবে| পাশাপাশি নদীতে মাছ চাষ করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে| পাওয়া যাবে না মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ| এমন চিন্তা থেকে পৌরবাসীর ব্যবহৃত পানি যেসব ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে তার বিকল্প পথ খুঁজছে পৌরসভা|
পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ইমরান হোসেন জানান, পৌরসভার অভ্যন্তরে ছোট ড্রেনের (টারশিয়ারি) তুলনায় সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি ড্রেনের সংখ্যা কম থাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে শহরের বেশ কিছু স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়| ড্রেনের পানি ফেলা হয় মহানন্দা নদীতে| কিন্তু বর্তমানে শহরের রেহাইচর এলাকায় মহানন্দা নদীর ওপর রাবারড্যাম নির্মিত হওয়ায় বিদ্যমান আউটফল স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে| ফলে নতুন কোনো আউটফল রাবারড্যামের উজানে স্থাপন করা সম্ভবপর হচ্ছে না|
সূত্রটি আরো জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্যাকেজে ১০.২০৯ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৮.১০৬ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে রয়েছে| এই প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু ছোট ড্রেনসহ বাতেন খাঁর মোড় হতে পিটিআই মোড় পর্যন্ত সেকেন্ডারি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে| এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন মহানন্দা নদীর সেতুর সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে (বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত) ১৯টি প্যাকেজের আওতায় ৩৭.৯৬ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১৭.৭৭ কিলোমিটার ড্রেন (সেকেন্ডারি এবং প্রাইমারি) নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে| এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ড্রেন সম্পন্ন বাস্তবায়িত হলে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে| ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা মুক্ত শহর গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে|
বর্তমানে যেসব ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তা নির্মাণ শেষে কিছুটা সুফল পাওয়া গেলেও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হলে এর পুরোপুরি সুফল পাবে পৌরবাসী|