চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে জলাহারে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশীদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকায় খরা ও পানির সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পানি সংরক্ষণই নয়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরো বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যেন এখানে পানি ধরে রাখতে পারি তা নিশ্চত করতে হবে। একই সাথে এই অঞ্চলে আরো যে খাস পুকুর ও খাড়ি আছে সেগুলো সকলের সহযোগিতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে খনন করব ইনশাআল্লাহ। তিনি এ মহতী উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ দেন এবং সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম লুৎফুল হাসান, সমাজ সেবক মো. আব্দুল মান্নান, প্রয়াসের সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান, রেইজ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আলম বিশ্বাস, সহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বকুল কুমার ঘোষ।
বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগণের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির “ইসিসিসিপি-ড্রাউট” প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় এই খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে গত বছরের ২৫ আগস্ট ‘অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা’ এবং ১ হাজার ২৪০টি মৌজাকে মধ্যম মাত্রার পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে গত জানুয়ারিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সংকটাপন্ন এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বন্ধ রাখাসহ ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।
এমন অবস্থায় বরেন্দ্র অঞ্চলে “ইসিসিসিপি-ড্রাউট” প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে সহায়তা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়াও খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় জনগণের জীবিকা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা জানান।