চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শহরকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি। এছাড়া প্রতিটি হাটবাজার, রাস্তার ধার, বাঁধের বন-জঙ্গলসহ সকল জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএমডিএ, সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের নির্দেশনা দেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন— এ দেশটা আমাদের সবার। আমরা শুধু তাকিয়ে থাকি, রাষ্ট্র আমাদের কী দিচ্ছে। আমাদেরও রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দেয়ার আছে তা কিন্তু আমরা ভাবি না। তাই আসুন, আমার আপনার বাড়ির চারপাশটা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন রাখি।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এসব ছোট ছোট কাজে বাজেট কোনো সমস্যা নয়। আপনারা নিজেরাই এই কাজগুলো করতে পারেন। চাই শুধু সদিচ্ছা।
তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেন— প্রতিটি হাটবাজারে সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আপনারা সোলার প্যানেল স্থাপন করুন, আশা করা যায় আমাদের বিদ্যুতের ঘাটতি কমে আসবে। তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাটবাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ইজারাদারদের। কাজেই ইজারাদারদের মাধ্যমে হাটবাজারগুলো পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন। তা ছাড়া অপরাধ দমনে প্রতিটি হাটবাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি আরো বলেন— মাদক প্রতিরোধে খেলাধুলার ব্যাপকভাবে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমার সরকার, সারাদেশের মানুষের সরকার। তিনি বলেন, সবার জন্য উন্নয়ন হবে। এজন্য সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রত্যেক নাগরিক যেন সকল সুবিধা পায়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বড় প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। জনগণ আমাদের রায় দিয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার সরকারি কর্মচারীগণ বাস্তবায়ন করবে।
ডেঙ্গু বিষয়ে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, শুধু প্রোগ্রাম করে হবে না। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লোকদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খাল খনন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, বাদ পড়া সকল খাল খনন করা হবে। এজন্য তিনি প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের নির্দেশনা দেন।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল আলম সরকার তার বক্তব্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বজায় রাখা ও জনসেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ডেঙ্গ পরিস্থিতি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ জেলার সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
সভায় উপস্থিত ছিলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেরাজ উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তারসহ সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনরা।