মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 27, 2026
October 26, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা

Published: October 26, 2026 at 02:10 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে না পারে সেজন্য প্রজনন স্থান ধ্বংস করতে হবে। অভগে পৌরবাসীকে সচেতন করা হবে। তারা যদি সচেতন না হয় তাহলে আইন প্রয়োগ করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করত হবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে আটটি দলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব দলের মাধ্যমে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নাগরিকরা কথা শুনছে না। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশীদ ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীওকের মশাররী মধ্যে রাখা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, লার্ভাসাইট সরবরাহ পেলে বিএনপির ১০০ কর্মী তিনদিনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবেন। 

সভায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট লেভেল অফিসার মাহমুদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইউনিট ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান সভায় জানান, পৌরসভার কর্মকর্তাদের টিম লিডার করে জেলা প্রশাসন গঠিত টিম ও রেডক্রিসেন্টের পাশাপাশি স্কাউটস ও যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের নিয়ে আলাদা আরো কয়েকটি টিম কাজ করবে। 

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন-অনেকেই মনে করেন জ্বর ছেড়ে গেলেই ডেঙ্গু ছেড়ে গেছে। কিন্তু না, জ্বর ছাড়ার তিন চারদিন খুবই খারাপ সময়। এসময়টা চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আর যাদের জ্বর হবে তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করতে হবে। অবহেলা করা যাবে না। এই অবহেলার কারণেও মানুষ মারা যায়। জুলাই-আগস্ট থেকে ডেঙ্গু শুরু হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে।