কোনো গণতান্ত্রিক সরকার কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের বেআইনি পথ বেছে নেয়াকে সমর্থন করে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল সাজা বা আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, কোনো বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নয়।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি সরকার যদি বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষকে হত্যা করে, তবে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না, মাস্তানে পরিণত হয়। অতীতে যারা এসব কাজের সাথে যুক্ত ছিল, রাষ্ট্রকে তারা মাস্তানে পরিণত করেছিল। বর্তমান সরকারের রাতের আঁধারে নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখার কুমতলব নেই। তাই সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।’
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘কাগজে-কলমে আদেশ হলেও কোনো বেআইনি নির্দেশ পালন করতে তারা বাধ্য নন।’
পুলিশ প্রধানের (আইজিপি) বক্তব্য নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইজিপি তার বক্তব্য সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করেছেন। এই ইস্যুতে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর তিনি নিজে বিবেচনা করবেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আইন হাতে তুলে নেয়া বা উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা মাত্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার প্রতিনিয়ত এই কঠোর বার্তা দিচ্ছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গণমাধ্যমকে কীভাবে দেখতে চায় এবং গণমাধ্যমের নতুন করে মালিকানা ও রেগুলেটরি বডি নিয়ে তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও চিন্তা রয়েছে, যা তারা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।
সংবিধান সংস্কার ও ঐক্যমত কমিশনের কাজ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রাথমিক আলোচনার বাইরেও বিভিন্ন সংশোধনী নিয়ে কাজ চলছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য কমিশনকে আরো বেশি ভাইব্রেন্ট ও সক্রিয় করে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরো বলেন, যে কোনো সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া নাগরিকদের অধিকার। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুনর্গঠিত তথ্য কমিশনকে আরো সক্রিয় ও গতিশীল করা হচ্ছে। নতুন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন ও বক্তব্য প্রসঙ্গে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে থাকা কাউকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ বলা যৌক্তিক নয়। তিনি দেশে ফিরে এলে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তার প্রতি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।