শরতের নির্মল নীল আকাশ, প্রকৃতির সবুজের সমারোহে সাদা কাশফুল, শিউলির মনভোলানো সুগন্ধ, আর ঢাকের বাদ্যে প্রতিমা তৈরিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬৪টি মণ্ডপে কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগামনী বার্তা। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ব্যস্ত সময়ের মধ্যে দিয়ে প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ করতে চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। এ উৎসবকে ঘিরে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে পাশাপাশি চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। এখন শারদীয় উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীর শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় আরোহন করে মর্তে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবী দুর্গাকে অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে রাতভর চালাচ্ছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা সাজানোর কাজ। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা। তুলির আঁচড়ে মৃর্ত হয়ে উঠেছে দেবীর রূপ। এখন যেন দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পীদের।
রবিবার নাচোল উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কারিগররা বাঁশ কাঠ, সুতা, খড়, কাদামাটিসহ বিভিন্ন রকম রং দিয়ে তাদের নিখুঁত হাতের কারুকার্যে তৈরি করেছেন প্রতিমা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কারিগররা বলেন, মাটির ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলবে রঙের কাজ।
এদিকে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। সারাদিন কাজ করার পরেও রাতে কাজ করতে হচ্ছে।
কথা বলে জানা যায়, প্রতিমা তৈরির প্রকার ভেদে চুক্তিভিত্তিক ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মজুরি পাওয়া যায়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় প্রতিমা তৈরিতেও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তেমন একটা ভালো লাভ হবে না। তবে লাভ বেশি না হলেও নিজের কাজ মনে করেই কাজ করে চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। কারণ বংশপরম্পরায় তারা এই কাজ করে আসছেন।
নাচোল উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুধেন চন্দ্র বর্মন বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষঈর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এবছর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১৬টি ও একটি পৌরসভায় ১টি মোট ১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবছর ১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপন হবে, তার মধ্যে কয়েকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোরভাবে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে যাতে সহজেই শনাক্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যায়।