চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারো হুহু করে বাড়ছে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি। গত মঙ্গলবার থেকে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে নদীর ভাঙনে পদ্মা নদীর পাড়ের মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিলীন হচ্ছে সম্পদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, পাঁকা ইউনিয়নের কানছিড়া, ঝাইলপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ির সঙ্গে ফসলি জমি, আমবাগানসহ বহু সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন— এখন ভরা নদী, এ অবস্থায় কিছু করা কঠিন। তবে পানি কমে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকল্প গ্রহণ করে ভাঙন রোধ করা হবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বৃদ্ধি ও হ্রাস বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পাঁকা গেজ স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ সেন্টিমিটার, মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এই তিন স্টেশনে পানির সমতল নির্ণয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পদ্মায় পাঁকা গেজ স্টেশনে পানির সমতল ছিল ১৯.৮৭ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ২০.১৩ মিটার।
অন্যদিকে মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ১৮.১৩ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮.২৭ মিটার।
অপরদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পানির সমতল ছিল ১৮.২৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮.৩৫ মিটার।
উল্লেখ্য, পদ্মায় বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫ মিটার, মহানন্দায় ২০.৫৫ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীতে ২১.৫৫ মিটার।