বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 09, 2026
September 08, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু

Published: September 08, 2026 at 12:53 PM
পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে শিশুসহ ২৭০ কোটির বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে রয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দ্য ল্যানসেট জার্নালে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক এখনো বিশ্বজুড়ে রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। গত ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে মারা যাওয়া প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিলো ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষ। গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।’

মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) গবেষণাভান্ডার পাবমেডে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শের মাত্রা এবং এর কারণে সৃষ্ট রোগের প্রভাব নিরূপণের চেষ্টা করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ছিল ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু। এই সংস্পর্শের কারণে আনুমানিক ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকালে মারা গেছেন। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ অকাল প্রতিবন্ধিতা ও অসুস্থতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রধান ছিল ইস্কেমিক হৃদরোগ, অর্থাৎ হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে সৃষ্ট হৃদরোগ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ২০২৩ সালে আনুমানিক ৫২ লাখ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয়েছে। গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেছেন, ধূমপানরত ব্যক্তির আশপাশে থাকা মানুষ একই সঙ্গে জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে বের হওয়া ‘সাইডস্ট্রিম স্মোক’ ও ধূমপায়ীর নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া ধোঁয়া গ্রহণ করেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসে থাকা পরোক্ষ ধোঁয়ার বড় অংশই আসে সাইডস্ট্রিম স্মোক থেকে। এটি সাধারণত ফিল্টার করা হয় না এবং সক্রিয় ধূমপায়ী যে ধোঁয়া টানেন, তার তুলনায় এতে প্রতি একক পরিমাণে বিষাক্ত ও ক্যানসারসৃষ্টিকারী রাসায়নিকের ঘনত্ব বেশি থাকে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের মোট সংখ্যা তেমন কমেনি। এর কারণ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, নারীরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেসব এলাকায় নারীদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শকে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে খুব কমই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।’ পরোক্ষ ধূমপান থেকে নারী ও শিশুদের আরও ভালোভাবে রক্ষা করার জন্য, সমীক্ষায় সরকারগুলোকে জনসমাগমস্থল ও বাড়িতে আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।