সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 07, 2026
September 07, 2026
নাচোল
নাচোল

নাচোলে পান চাষে সাড়া ফেলেছেন কৃষক বাবলু

Published: September 07, 2026 at 01:58 PM
নাচোলে পান চাষে সাড়া ফেলেছেন কৃষক বাবলু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম বাবলু। বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া এবং খরাপ্রবণ মাটিতেও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রথাগত ধান বা আমের চাষ বাদ দিয়ে তুলনামূলক অনেক লাভজনক এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে পান চাষ বেছে নিয়ে রবিউল এখন ওই এলাকার অন্য চাষিদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের পুকুরিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বটতলা বাজারের পাশে ১০ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছেন। রবিউল বলেন, “রাজশাহীর মোহনপুরে কাজ করতে গিয়ে পানচাষিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের পান বরজ দেখে আমারও আগ্রহ হয়। তারা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন এবং আমার বরজ তৈরিতেও এখানে এসে সহযোগিতা করেছেন। প্রথমে এক কাঠায় শুরু করেছিলাম। ভালো ফলন পাওয়ায় এবছর ১০ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছি।”

কৃষক রবিউল এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে নাচোলের অনেক তরুণ ও সাধারণ কৃষক এখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে এই অর্থকরী ফসলের চাষ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

এদিকে রবিউলের বরজ দেখে পান চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও। কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এখানে আমরা সাধারণত ধানসহ অন্য ফসল চাষ করি। রবিউলের পান বরজ দেখে ভালো লাগছে। পান চাষে লাভ হলে আমরাও করার কথা ভাবছি।”

কৃষক সেতাউর রহমান বলেন, “পান বরজ করতে শুরুতে খরচ আছে। কিন্তু একবার বরজ তৈরি হয়ে গেলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হতে পারবেন।”

কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “রবিউলের বরজ দেখে অনেকেই পান চাষের কথা ভাবছেন। কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া গেলে অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।”

নাচোল উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় পান চাষের সম্ভাবনা আছে। পান চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।” কৃষিতে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।