চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব ও নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক চিঠিতে তাদেরকে কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-১ শাখার উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।
পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলাধীন কসবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া আল মেহরাব ও নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬ এর নাচোল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্য দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। এ অবস্থায় কসবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া আল মেহরাব ও নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে আইনবহির্ভূত। সেহেতু, তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী এই দুই চেয়ারম্যানকে স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
অপর দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় আপনাদেরকে কেন স্বীয় পদ হতে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ নিশ্চিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
গত ২৪ আগস্ট এই প্রজ্ঞাপন এবং কারণ দর্শাও নোটিশ জারি রকরা হয়।