সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 07, 2026
September 07, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

পাকিস্তান দলের কড়া সমালোচনা করলেন ডি ভিলিয়ার্স

Published: September 07, 2026 at 01:02 PM
পাকিস্তান দলের কড়া সমালোচনা করলেন ডি ভিলিয়ার্স

পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অস্থিরতাকে দায়ী করা যায় না, খেলোয়াড়দেরও দায় নিতে হবে-এমনটাই মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবর আজমদের ব্যাটিং ও মানসিক দৃঢ়তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে প্রথম টেস্ট মাত্র তিন দিনে শেষ হয়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়ায় মূলত বৃষ্টির কারণে। চার ইনিংস মিলিয়েও পাকিস্তান একবারও ২০০ রানের গণ্ডি পার হতে পারেনি। এই ব্যর্থতার পর তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে বড় পরিবর্তন আনে পিসিবি। সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে টেস্ট কোচ সরফরাজ আহমেদের জায়গায় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডি ভিলিয়ার্সের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ-ছয় বছর ধরে খেলা কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারও এখনো ধারাবাহিক হতে পারেননি। বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতার ঘাটতি তিনি দেখতে পাচ্ছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়কে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে প্রস্তুত মনে হয় না। বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে যথেষ্ট ‘সাহস’ ও ‘লড়াইয়ের মানসিকতা’ নেই। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘বর্তমানে আমি খুব একটা দেখি না যে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগতভাবে সেই বাড়তি পরিশ্রমটুকু করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে। তাদের মধ্যে যথেষ্ট... শব্দটা কী হবে, সাহস বা লড়াইয়ের মানসিকতা নেই। সবকিছু সবসময় সুন্দর হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু তারা অনেক বেশি সহজে উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছে। এটি আসলে আপনার নিজের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।’

দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার যোগ করেন, ‘কখনও কখনও এটি দেখতে বিরক্তিকর এবং ভীষণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমি যদি নিজের ইগোর জন্য খেলতাম, তাহলে হয়তো আমি অন্যরকম একজন খেলোয়াড় হতাম। আমার কাছে সবসময় এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, আজ আমি মাঠে কতটা দৃঢ় চরিত্র দেখাতে পারছি। আমার সবসময় মনে হতো প্রতিপক্ষ আমার চরিত্রের জন্য একটা হুমকি। আর এভাবেই আমি পরিস্থিতি সামলে খেলার সিদ্ধান্ত নিতাম।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান পাকিস্তান দলের ‘ক্যারেক্টারের’ অভাব রয়েছে এবং মাঠে পরিস্থিতি কঠিন হলে খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সাবেক এই প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘আমার সবসময় মনে হতো টেস্ট ক্রিকেট আপনার চরিত্রের পরীক্ষা নেয়। সম্ভবত বর্তমানে পাকিস্তানের এই জায়গাতেই ঘাটতি রয়েছে। একটু চারিত্রিক দৃঢ়তা, একটু লড়াইয়ের মানসিকতা। চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের একটি নিজস্ব লিডারশিপ গ্রুপ থাকা প্রয়োজন, যারা একসাথে সিদ্ধান্ত নেবে যে, চলুন আমরাই এখানে নেতৃত্ব দিই এবং সবাইকে পথ দেখাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘চলুন উদাহরণ তৈরি করি। তরুণদের দেখাই যে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে কী লাগে। হয়তো এই জায়গাতেই তারা পিছিয়ে আছে।’ পরিশেষে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে এটাই আমার সংক্ষিপ্ত কথা। আশা করি তারা তাদের ফর্মে ফিরবে এবং সব ফরম্যাটেই আমরা তাদের যে রূপে দেখতে অভ্যস্ত, সেই দলে পরিণত হবে।’