সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 07, 2026
September 07, 2026
জাতীয়
জাতীয়

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

Published: September 07, 2026 at 01:09 PM
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে  প্রত্যাবাসনে সব ধরনের  সহযোগিতা দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তিনি বলেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তারেক রহমান আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত।

সোমবার মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন (জাতীয় সমঝোতা) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে।

বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।

এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।