শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সম্পাদক তোফার সুস্থতা কামনায় দোয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করল ছাত্রশিবির শিবগঞ্জে সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে ফেসবুকে গণলাইভ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আরো ৪ শিশু ৫৯ বিজিবির অভিযানে শিবগঞ্জে জব্দ মাদকদ্রব্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত, ভর্তি রোগী ১৬৪ জন গোমস্তাপুরে নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন জুমারপাড়া কিশোরী ক্লাব লালনের বাণী ও গানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাধুসঙ্গ ওবাইদুল আজিম রিংকুকে স্মরণ করল এসএসসি-৯৩ ব্যাচ বারঘরিয়া বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে বিজয়া পুনর্মিলনী
Printed on: October 24, 2026
August 24, 2026
জাতীয়
জাতীয়

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ

Published: August 24, 2026 at 12:47 PM
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাই কমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

বৈঠকে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ভারতীয় হাই কমিশনার যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এই খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরো বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।