ওয়েশ কুরুনী মাসুম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরের আলীনগর রেলগেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। ছাত্র পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ক্রিকেটের আম্পায়ার হিসেবে। দুরন্ত এই মাসুম এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে তার। মাসুমের করুণ চাহনিতে, বাঁচার আকুলতা। কিন্তু পারিবারিক দীনতা তাকে আরো অসহায় করে তুলেছে।
বাবা আমিরুল ইসলাম, ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী। নুন আনতে পানতা ফুরায় যার, তার পক্ষে তো সন্তানের ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। অগত্যা সমাজের বিত্তবানদের কাছে হাত পেতেছেন, যদি মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে পারেন।
বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মাসুম ব্যক্তিজীবনে বিবাহিতও। তারও দুই মাসের শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুকে কোলে নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের কথা ভেবে নীরবে চোখের জল ফেলে চলেছেন অসহায় বাবা মাসুম।
প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে কিডনি নষ্ট হওয়ার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি অর্থাভাবে।
পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করলে ঢাকার মুগদার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন মাসুম। সেখানেই জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। চিকিৎসক দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।
পরামর্শ পেলেই তো আর চলবে না। অর্থ জোগানই মূল সংকট। তাই মাসুম দিন দিন ধুঁকছেন অসুস্থ শরীর নিয়ে।
চার ভাই-বোনের মধ্যে মাসুম সবার ছোট। বড় দুজন বোন, দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর বড়ভাই হোটেল শ্রমিক। বড় বোন খাদিজার সঙ্গে ব্লাড গ্রুপের মিল রয়েছে মাসুমের। ছোটভাইকে বাঁচাতে কিডনি দান করতেও প্রস্তুত বড় বোন। প্রস্তুত আরেক বোনও। কিন্তু কিডনি ম্যাচিংয়ের টেস্টসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচের জন্যই প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা। এই টাকাই যেখানে অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কষ্টসাধ্য, সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপন তো আরো দূরের কথা।
এ অবস্থায় বাবা আমিরুল ইসলাম সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা থাকলে আর মানুষের সহযোগিতা পেলে আমার ছেলেকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। সহযোগিতা না পেলে তিলে তিলে ছেলেকে মৃত্যুর দিকে চলে যাওয়া দেখতে হবে তাকে। এ যে কত যন্ত্রণার দৃশ্য, তা বলে বোঝানো যাবে না।
ওয়েশ কুরুনী মাসুমকে সহযোগিতা করা যাবে ব্যাংকের মাধ্যমে। হিসাবের নাম- মো. ওয়েশ কুরুনী, হিসাব নম্বর- ৪৭০৪৩০১০১২৭০২, নিউমার্কেট শাখা, সোনালী ব্যাংক পিএলসি।