চাঁপাইনবাবগঞ্জে বনলতা ট্রেনের ধাক্কায় নিহত এক নারীসহ অজ্ঞাত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ৬টার দিকে একই সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মহাডাঙ্গা রেলক্রসিং এলাকায় অজ্ঞাত এক নারী এবং ভোলাহাটে পল্লীমঙ্গল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের সামনে থেকে অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল বারিক ও রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক আশিষ সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে জেলার নাচোল উপজেলার নেজামপুরে কাজ করার সময় বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে এক আদিবাসী তরুণ মারা যান।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৬টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ‘বনলতা এঙ্প্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ মহাডাঙ্গা রেলক্রসিং এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশিষ সরকার জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিনি গত চার-পাঁচ দিন ধরে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
অন্যদিকে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক জানান, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহটির নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি। লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন (ভবঘুরে) ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণ করা হচ্ছে, তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার নাকে-কানে রক্তের দাগ ছিল এবং পায়ের আঙুলে কোনো জীবজন্তুর (শিয়াল বা কুকুর) কামড়ের ক্ষত ছিল। তিনি আরো জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সোহেল হাসদা (১৯) নামের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্ণীপুর মোড়ের দক্ষিণ পাশে নাচোল টু আমনুরা সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া সোহেল হাসদা উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের টকটকিয়া মসনাপাড়া গ্রামের বাজুর হসদার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে দুজন ইলেকট্রিশিয়ান বিদ্যুতের কাজ করছিলেন। তাদের সাথে সোহেল হাসদাও কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে বাঁশ কাটার সময় বিদ্যুতের তারের ওপর বাঁশ পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান হাসদা।
এ বিষয়ে নাচোল পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম গোলাম সারওয়ার মোর্শেদ জানান, যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। আর যে কাজটি করছিল, সেটি ছিল নেসকোর কাজ। কিন্তু পাশে আমাদের পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার লাইন ছিল। যাতে করে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমাদের পল্লী বিদ্যুতের কাজ হলে লাইন টেনে কাজ করা হতো।
এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সোহেল হাসদা বাঁশ কাটছিলেন এমতাবস্থায় বিদ্যুতের তারের ওপর বাঁশ পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।