সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন কাউন্সিলরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারাও সচেতনতার বার্তা নিয়ে এবার নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩টি টিয়াপাখি অবমুক্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিম গঠন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব শান্তি দিবসে শোভাযাত্রা চরঅনুপনগরে খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসল চাষে প্রশিক্ষণ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ তিন বছর পর ক্লাসরুমে ফিরল গাজার শিশুরা আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিন জন নিহত
Printed on: September 21, 2026
August 04, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

স্পেনে অভিবাসন সংকট : সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান ইইউর

Published: August 04, 2026 at 01:42 PM
স্পেনে অভিবাসন সংকট : সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান ইইউর

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সেউতায় কয়েক হাজার অভিবাসীর ঢলের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। স্পেন জানিয়েছে, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জনকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ৫০ হাজারের চেয়েও বেশি। স্পেনের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনায় ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর অংশে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন।

সংকট মোকাবিলায় গতকাল মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসবেন ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেউতার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ফন ডার লেয়েন সংকট মোকাবিলায় তার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সেউতার পরিস্থিতির জেরে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির সুবিধা স্থগিত করেছে। ইউরোপের ২৯টি দেশ ও ৪৫ কোটির বেশি মানুষের জন্য প্রযোজ্য এই চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। ইতালির এ পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।

এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতেরও আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কিছু ইউরোপীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সেউতা নিজেই শেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়। তার দাবি, বেশিরভাগ দেশ স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও কিছু সরকার পূর্বধারণা, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে স্পেনের সমালোচনা করছে। চিঠিতে ফন ডার লেয়েন বলেন, ইউরোপের বহিরাগত সীমান্ত রক্ষা করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। প্রয়োজনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (বর্ডার ব্যারিয়ার) স্থাপন এবং কঠোর নজরদারির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, সেউতার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউকে পাঁচটি বিষয়ে আরও জোর দিতে হবে। সেগুলো হলো- অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া ও অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারীরা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সামপ্রতিক এক রায়ের সুযোগ নিচ্ছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, বর্তমানে সেউতার পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পানিতে ভাসমান বিশেষ প্রতিবন্ধক (ইনফ্ল্যাটেবল ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ চলছে।