চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত ‘অঙ্গনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’| এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে|
উপজেলার মূল স্রোতের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে অজপাড়াগাঁয়ের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তর ও সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে|
জানা গেছে, কসবা ইউনিয়নের গোলাবাড়ী ঈদগাহ পাড়া উজিরপুর ‘অঙ্গনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থেকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে| এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে| উত্তীর্ণদের মধ্যে ২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে| বৃত্তি পাওয়ার হার ৮১.৮১, যা বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম|
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়|
বিদ্যালয়ের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক সুলতানা খাতুন জানান, ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ গ্রামীণ ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়| স্থানীয় অভিভাবকদের আস্থা ও শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমে বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬ জনে|
এর আগে ২০২২ সালেও এই বিদ্যালয় থেকে ২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছিল বলে জানান তিনি|
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল| তবে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে| বিদ্যালয়টিতে যদি আরো সুন্দর ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে আগামীতে শিক্ষার্থীরা আরো ভালো ফলাফল করে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে|”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকার অঙ্গনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় ১১ জন অংশ নিয়ে ৯ জন বৃত্তি পাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়|
অন্যদিকে, একই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার ৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে|
তবে সীমিত সম্পদের মধ্যে অঙ্গনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই লড়াকু সাফল্য উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে|
স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগকে সরকারিভাবে কিছুটা পৃষ্ঠপোষকতা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা দিলে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার মান আরো উন্নতি হবে|