চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা| হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই মহোৎসব শুরু হয়|
সে হিসাবে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনন্দঘন পরিবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হুজরাপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ঠাকুরবাড়ী থেকে উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘ, ঝিলিম রোডস্থ সুরেন্দ্রনাথ সিংয়ের ছোট ঠাকুরবাড়ী থেকে হরেকৃষ্ণ সংঘ ও চরজোতপ্রতাপ শিবতলা শিবমন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের সুসজ্জিত রথযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়|
এসময় ভক্তরা কীর্তনসহ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা করেন| ঢোলের বাজনার সঙ্গে শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পৌরাণিক সাজের মাধ্যমে আবহমান বাংলা ও পৌরাণিক বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় উৎসবে|
রথযাত্রা হিন্দু ধর্মের, বিশেষত শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ভক্তদের কাছে একটি পূণ্যউৎসব এবং পূণ্যতিথি|
হিন্দুশাস্ত্র মতে, রথের দড়ির স্পর্শে (দড়ি টানলে) পুণ্য লাভ হয়|
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, রথযাত্রার পূণ্য তিথিতে নিজ নিজ রথে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে নিয়ে সপ্তাহকালের জন্য মাসির বাড়ি অর্থাৎ ইন্দ্রদেবের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি গমন করেন| এই বেড়াতে যাওয়ার উৎসবই রথযাত্রা| ৮ দিন পর উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে| নামোশংকরবাটি ঘোষপাড়া, শহরের ঝিলিম রোড, হুজরাপুরসহ বারঘরিয়া থেকে ৮টি রথযাত্রা বের করা হয়|
এদিকে রথযাত্রাকে ঘিরে জেলাশহরের পৌরসভা পার্কে মেলা বসেছে| মেলায় মিষ্টির দোকান, মনোহারির দোকান, মাটির বিভিন্ন ˆতজষ পত্র, খেলনা, বাঁশি, কাঠের আসবাবপত্রসহ হরেক রকমের পণ্য শোভা পাচ্ছে|