চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনের আম মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ফিতা কেটে এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’র আওতায় আয়োজিত মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেনÑ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেনÑ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিল্পব কুমার মজুমদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন। সূচনা বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুনাইন বিন জামান। কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনিসুল হক মাহমুদ। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, “আম শুধু একটি ফল নয়, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আমের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আরো উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। আম চাষ, সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। জেলার অর্থনীতিতে আমের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা রয়েছে। তাই আমকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা সমৃদ্ধ হচ্ছে।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে সুপরিচিত। এখানকার আম দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আমচাষের মাধ্যমে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন।
এবারের মেলায় সরকারি বেসরকারি ১৭টি স্টলে আমভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দুই শতাধিক জাতের সুমিষ্ট আম প্রদর্শন। এছাড়া অন্যান্য ফলও মেলায় স্থান পেয়েছে।
মেলা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং ফলভিত্তিক কৃষির প্রসার ঘটানোই এ মেলার মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
আগামীকাল শনিবার শেষ হবে এবারের আম মেলা।