চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাদকবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে প্রশিক্ষক বা মেন্টর তৈরি করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) জেলা কার্যালয়।
“জীবন হোক আলোকিত, মাদক হোক পরাজিত”Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার প্রশিক্ষক বা মেন্টর তৈরিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
ডিএনসি’র উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুল ওদুদ, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম জাকারিয়া, জেলা জামায়াতের আমির মো. আবুজার গিফারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একটি পরিবার নয়, মাদক একটি সমাজ ও একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তারা বলেন, একটি সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং মাদকাসক্তির প্রবেশদ্বার হিসেবে সিগারেটের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে।
তারা আরো বলেন, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালু করেছে। মাদকাসক্তি প্রমাণিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক নজরদারি এবং সর্বস্তরের মানুষের মাদকবিরোধী সচেতন অংশগ্রহণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন ও সক্রিয় করতে হবে। শিক্ষকদের তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের দায়িত্বও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলিতে মাদকবিরোধী শপথবাক্য পাঠ, শিক্ষার্থীদের মাঝে মোটিভেশনাল বক্তব্য প্রদান এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, তা কার্যকর করা এবং প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা আয়োজন করে তার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ জন প্রশিক্ষক বা মেন্টরের প্রশিক্ষণ নেন।