রবিবার ০৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 08, 2026
June 15, 2026
জাতীয়
জাতীয়

সরকার ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে : কৃষিমন্ত্রী

Published: June 15, 2026 at 01:20 PM
সরকার ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে|

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক পলিসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন|

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত| সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে| সে লক্ষে সরকার বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে|

তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে ন্যায্যমূল্য পান না| বিশেষ করে সবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে মৌসুমে দাম কমে যায়| এ সমস্যা সমাধানে কৃষকদের দোরগোড়ায় সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দিতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে|

মন্ত্রী আরো বলেন, ১৫ থেকে ২০ জন কৃষককে নিয়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় এসব কোল্ড স্টোরেজ পরিচালিত হবে এবং এগুলো সৌরবিদ্যুৎচালিত হবে| ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পে এ ব্যবস্থার সফলতা পাওয়া গেছে| ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি এর সুবিধা পাবেন|

আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার চাহিদার মধ্যে সমš^য় গড়ে তুলতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে| এতে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবেন এবং ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য পাবেন|

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষে কাজ করছে| তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না| আর তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে|

তিনি বলেন, দেশের মাটির অম্লতা কমিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে| মাটির পিএইচ মাত্রা উন্নত করা গেলে সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে|

মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষিতে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে| ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেচযন্ত্র সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে|

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে| কৃষিখাতে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে প্রণীত গবেষণা ও সুপারিশ সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে|

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম| মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ এবং গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল| এতে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. ডিনা উমালি ডেইনিঙ্গারসহ নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন|